রাজ্য সরকারের নতুন উদ্যোগ, ১০০০-র বেশি তীর্থযাত্রীকে নিয়ে ‘স্বাভিমান পর্ব’, সোমনাথের পথে যাত্রা শুরু

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে ১২ সেপ্টেম্বর কলকাতা থেকে শুরু ‘স্বাভিমান পর্ব-সোমনাথ যাত্রা-২০২৬’। বিশেষ ট্রেনে সোমনাথ যাবেন রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ১০০০-র বেশি নির্বাচিত তীর্থযাত্রী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে শুরু হতে চলেছে ‘স্বাভিমান পর্ব-সোমনাথ যাত্রা-২০২৬’। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর কলকাতা স্টেশন থেকে বিশেষ ট্রেনে সোমনাথের উদ্দেশে রওনা দেবেন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার নির্বাচিত এক হাজারেরও বেশি তীর্থযাত্রী। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে দেশের অন্যতম ঐতিহাসিক তীর্থস্থানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার পাশাপাশি এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান ও জাতীয় সংহতির বার্তাও তুলে ধরা হচ্ছে।

কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের সব জেলা থেকে নির্বাচিত তীর্থযাত্রীরা এই বিশেষ ট্রেনে সামিল হবেন। সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষকেও যাত্রায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, এর ফলে বাংলার সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেশের অন্যান্য প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ আরও মজবুত হবে।

১২ সেপ্টেম্বর কলকাতা থেকে যাত্রা শুরুর পর বিশেষ ট্রেনটি ১৪ সেপ্টেম্বর সোমনাথে পৌঁছবে। সেখানে তীর্থদর্শন ও অবস্থানের পর ১৭ সেপ্টেম্বর ফেরার যাত্রা শুরু হবে। সব ঠিক থাকলে ২০ সেপ্টেম্বর ভোরে কলকাতা স্টেশনে ফিরে আসবে বিশেষ ট্রেনটি।

এই পুরো তীর্থযাত্রার যাত্রাপথের ব্যয় বহন করছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর। যাত্রীদের যাত্রাপথে নিরাপত্তা, চিকিৎসা, পানীয় জল, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং অন্যান্য লজিস্টিক ব্যবস্থার জন্য একাধিক সরকারি দফতর ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় করা হয়েছে।

সোমনাথে তীর্থযাত্রীদের থাকা, খাওয়া, স্থানীয় দর্শন এবং যাতায়াতের ব্যবস্থা করবে গুজরাট সরকার। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে যাত্রীদের কলকাতায় নিয়ে আসা এবং যাত্রাপথে তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার দায়িত্বে থাকবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন।

তীর্থযাত্রীদের যাত্রা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সহায়ক আধিকারিক ও প্রতিনিধিকেও রাখা হচ্ছে। বিশেষ ট্রেনের পুরো যাত্রাপথে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থাও থাকছে বলে জানানো হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলির তীর্থযাত্রীদের জন্যও থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলার নির্বাচিত তীর্থযাত্রীরা আসানসোল স্টেশন থেকে বিশেষ ট্রেনে যোগ দেবেন। তাঁদের কলকাতা বা অন্যত্র অযথা যাতায়াতের চাপ কমাতে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

সোমনাথ ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহাসিক তীর্থস্থান। ভারতীয় সভ্যতা, ধর্মীয় বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে এই তীর্থক্ষেত্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। পশ্চিমবঙ্গ থেকে সোমনাথের উদ্দেশে এই বিশেষ যাত্রাকে তাই শুধুমাত্র একটি তীর্থভ্রমণ হিসেবে দেখছে না রাজ্য সরকার।

সরকারের বক্তব্য, বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে দেশের পশ্চিম প্রান্তের এই প্রাচীন তীর্থস্থানের যোগসূত্র আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। পশ্চিমবঙ্গ ও গুজরাটের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যগত সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেওয়ার পাশাপাশি দেশের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের ভাবনাকেও আরও শক্তিশালী করবে এই যাত্রা।

এই বৃহৎ কর্মসূচি সফল করতে জেলা প্রশাসন, রেল কর্তৃপক্ষ, পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতর, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করা হয়েছে। কলকাতা স্টেশনে যাত্রার সূচনা অনুষ্ঠান এবং বিশেষ ট্রেনের নিরাপদ পরিচালনার জন্য রেল ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুবিধাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পুরো যাত্রাপথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। সরকারের দাবি, ‘স্বাভিমান পর্ব-সোমনাথ যাত্রা-২০২৬’ বিশ্বাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জাতীয় সংহতির এক সম্মিলিত বার্তা বহন করবে।

বাংলা থেকে সোমনাথ—এই যাত্রার মাধ্যমে দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর ভাবনাকেও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর কলকাতা থেকে বিশেষ ট্রেন ছাড়ার মধ্য দিয়ে সেই উদ্যোগেরই আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে চলেছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন