নতুন বছরের শুরুতেই উত্তরবঙ্গের ধর্মীয় মানচিত্রে বড় সংযোজন। শিলিগুড়িতে বাংলার সবচেয়ে বড় মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস হবে জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে— নিউ টাউনে দুর্গা অঙ্গনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান থেকেই এই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, জমি প্রস্তুত, অর্থের সংস্থানও হয়ে গিয়েছে— এবার শুধু আনুষ্ঠানিক সূচনার অপেক্ষা।
কিছুদিন আগেই উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দির তৈরির পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে এনেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। অক্টোবর মাসে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে একাধিকবার সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সফরেই দার্জিলিঙের মহাকাল মন্দিরে পুজো দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই ঘোষণা করেন, শিলিগুড়িতে বাংলার সবচেয়ে বড় মহাকাল মন্দির গড়ে তোলা হবে।
তখন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, শিলিগুড়ির জেলাশাসককে একটি উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে। সেখানে একটি কনভেনশন সেন্টার গড়ে উঠবে এবং তার পাশেই নির্মাণ হবে মহাকাল মন্দির। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মন্দিরে থাকবে বাংলার সবচেয়ে বড় শিবমূর্তি। জমি সরকার বিনামূল্যেই দেবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন ও প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির কথাও উল্লেখ করেছিলেন।
সোমবার নিউ টাউনের মঞ্চ থেকে সেই পরিকল্পনাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন শিলান্যাসের সময়সূচি। তাঁর বক্তব্য, “একটা সুখবর দিই— জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করব। জমি আমি নিজে দেখে নিয়েছি, রেডি করে দিয়েছি। পুজোর দিনই মনে মনে দিনক্ষণ ঠিক করে ফেলেছিলাম। ট্রাস্টের একটি বৈঠক করে বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে। অর্থের ব্যবস্থাও হয়ে গিয়েছে।”
প্রসঙ্গত, দিঘায় জগন্নাথ দেবের মন্দির নির্মাণের পর রাজ্যে আরও বড় ধর্মীয় পরিকাঠামো গড়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই ধারাবাহিকতায় নিউ টাউনে দুর্গা অঙ্গনের শিলান্যাস হয়েছে সোমবার। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আগামী দুই বছরের মধ্যেই দুর্গা অঙ্গনের নির্মাণকাজ শেষ হবে। শিলিগুড়ির মহাকাল মন্দির নিয়েও একইভাবে সময়সীমা মেনে কাজ এগোনোর ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
নতুন বছরের শুরুতেই মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস উত্তরবঙ্গের ধর্মীয় পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি দেবে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহল।



