উত্তরবঙ্গ সফরে ফের বড় ঘোষণা বাস্তবায়নের পথে রাজ্য সরকার। মকরসংক্রান্তির পরেই শিলিগুড়িতে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ১৬ জানুয়ারি শিলিগুড়ির মাটিগাড়া এলাকায় প্রস্তাবিত মহাকাল মন্দির-এর শিলান্যাস করবেন তিনি। প্রায় তিন মাস আগে ঘোষণা করা এই প্রকল্পের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হতেই প্রশাসনিক স্তরে শুরু হয়েছে জোরদার প্রস্তুতি।
গত বছরের অক্টোবরে পাহাড়ে ধস ও প্রবল বর্ষণের ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখতে দার্জিলিঙে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সফর শেষে শিলিগুড়িতে ফিরেই উত্তরবঙ্গে একটি বৃহৎ মহাকাল মন্দির নির্মাণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। এরপর প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত গঠন করা হয় একটি ট্রাস্টি বোর্ড। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়ার পর জানুয়ারিতেই শিলান্যাসের দিন ঘোষণা করা হয়।
পর্যটন দফতরের তত্ত্বাবধানে মাটিগাড়ার প্রায় ৫৪ বিঘা জমিতে গড়ে উঠবে এই মহাকাল মন্দির। শুধু ধর্মীয় পরিকাঠামো নয়, মন্দির সংলগ্ন এলাকায় একটি আধুনিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, নির্ধারিত জমির একাংশে ইতিমধ্যেই মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব নিজে গিয়ে এলাকা পরিদর্শন করেন। তাঁর মতে, এই মন্দির ভবিষ্যতে উত্তরবঙ্গের অন্যতম বড় পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রীর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অবকাঠামো উন্নয়নের তালিকায় এই প্রকল্প নতুন সংযোজন নয়। ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন করেছিলেন তিনি। এর পরে বছরের শেষদিকে নিউ টাউনে দুর্গা অঙ্গনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সেই ধারাবাহিকতাতেই নতুন বছরের শুরুতে শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাসে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জল্পনা। উত্তরবঙ্গে মহাকাল মন্দির প্রকল্প কি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে বাড়তি সুবিধা দেবে? উন্নয়ন ও ধর্মীয় পরিকাঠামোর এই মেলবন্ধন ঘিরে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক অন্দরে ইতিমধ্যেই চলছে নানা আলোচনা



