পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার আকাইহাটে এক তৃণমূল নেত্রীকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ এবং জনরোষের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কণিকা বায়েন সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে তাঁর বাড়িতে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় মহিলারা। বাড়িতে বসত মধুচক্রের আসর! ক্লাবে মেয়েদের পাঠানোর মতো ন্যক্কারজনক অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, পুলিশকে হস্তক্ষেপ করে তাঁকে উদ্ধার করতে হয়।
শুক্রবার রাতে আকাইহাট এলাকায় কণিকা বায়েন সরকারের বাড়ির সামনে জড়ো হন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ, যার মধ্যে ছিলেন বহু মহিলা। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন অনিয়ম ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে রয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, জব কার্ড সংক্রান্ত অনিয়ম, পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় বিরোধীদের উপর চাপ সৃষ্টি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে ওই নেত্রীর বিরুদ্ধে। সেই ক্ষোভ থেকেই এদিন তাঁরা প্রতিবাদে সামিল হন।
স্থানীয় মহিলাদের একাংশ আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, কণিকা বায়েন সরকারের বাড়িতে বেআইনি কর্মকাণ্ড চলত এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অসামাজিক কাজ পরিচালিত হত। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রশাসনিক বা আইনি স্তরে প্রমাণিত হয়নি।
বিক্ষোভ চলাকালীন উত্তেজিত জনতা ওই নেত্রীকে বাড়ি থেকে বাইরে বের করে আনে বলে অভিযোগ। এরপর তাঁকে জুতোর মালা পরানো হয় এবং ডিম ছোড়া হয়। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে কণিকা বায়েন সরকারকে নিরাপদে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগও গ্রহণ করে পুলিশ।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্থাপিত অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সমস্ত দিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাটোয়ার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা, প্রশাসনিক তদন্তের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতে আইনি পদক্ষেপ—সবকিছুর দিকেই এখন নজর রয়েছে স্থানীয়দের।



