রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে ফের ডিম নিক্ষেপের ঘটনা। এবার লক্ষ্য তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। সোমবার সন্ধ্যায় কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁর দিকে ডিম ছোড়ার অভিযোগ ওঠে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
সূত্রের খবর, সোমবার বিকেলে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে কালীঘাটে গিয়েছিলেন কুণাল ঘোষ। সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা নাগাদ তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। সেই সময় আচমকাই এক যুবক তাঁর দিকে ডিম নিক্ষেপ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কুণাল ঘোষ নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও ডিমটি তাঁর মাথায় লাগে। ঘটনার পর অভিযুক্ত যুবক দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যায়। পরে নিজের নাম চন্দন বলে পরিচয় দিয়ে তিনি দাবি করেন, কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকেই এই কাজ করেছেন।
ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে ওই যুবকের বক্তব্য ছিল, “অনেক অন্যায় করেছে।” এই মন্তব্যের পরই তিনি সেখান থেকে চলে যান। যদিও তাঁর অভিযোগের নির্দিষ্ট ভিত্তি সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।
ঘটনার পর প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, তিনি সম্পূর্ণ নিরস্ত্র অবস্থায় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তাঁর দাবি, অভিযুক্তরা খুব কাছেই দাঁড়িয়ে ছিল এবং সুযোগ বুঝে হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়।
কুণালের অভিযোগ, ঘটনার সময় উপস্থিত কেউ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেননি কিংবা অভিযুক্তদের আটকানোর উদ্যোগও নেননি। এই প্রসঙ্গেই তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
বেলেঘাটার বিধায়কের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পান। সেই বাড়ির একেবারে কাছাকাছি এলাকায় এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর মতে, এই ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এর আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও জনসংযোগ কর্মসূচির সময় একই ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলেন। এরপর বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক নেতাদের ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা সামনে এসেছে।
তবে কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই ধরনের ঘটনায় তিনি পিছিয়ে আসবেন না। তাঁর কথায়, “এক মাঘে শীত যায় না।” অর্থাৎ রাজনৈতিক আক্রমণ বা প্রতিবাদের মুখেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনও ইঙ্গিত তিনি দেননি।
ঘটনার পর পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে কি না, তাও স্পষ্ট নয়। তবে রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
কালীঘাটের মতো উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় এমন ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।




