বাংলাকে বিরোধী শূন্য করার চেষ্টা করছে বিজেপি, ED জেরা শেষে বিস্ফোরক অভিষেক

প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ১১ ঘণ্টার ED জেরা শেষে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সিজিও থেকে বেরিয়ে সরাসরি গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

প্রায় ১১ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা শেষে সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়েই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ও বিজেপিকে নিশানা করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়“বাংলাকে বিরোধী শূন্য করার চেষ্টা করছে বিজেপি”— ইডি-র দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে।

সোমবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি-র ডাকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় ১১ ঘণ্টা ধরে চলে জেরা।

ইডি দফতর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বলেন, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁকে একাধিকবার তলব করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “১২ বার ডাকা হয়েছে, ১২ বারই এসেছি। দিল্লিতে ডেকেছে, সেখানেও গিয়েছি।”

এরপরই বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তৃণমূল সাংসদ। তিনি দাবি করেন, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা শুরু হয়েছে। বিজেপি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে অভিষেক বলেন, “ওদের সম্পর্কে যত কম বলা যায়, ততই ভালো।”

তাঁর কথায়, ‘আজ সকাল ১১টার আগে এসেছি। ১১ ঘণ্টা আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এই ঘটনায় আমাকে শেষবার ডাকা হয়েছিল ২০২৩ সালে। আমি তখনও এসেছিলাম। সব মিলিয়ে ১০-১২ আমি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সামনে উপস্থিত হয়েছি। আমার সামর্থ অনুযায়ী সাহায্য করেছি।’

জেরা পর্ব শেষ হওয়ার পর সিজিও কমপ্লেক্স থেকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে চলে যান অভিষেক। রাজনৈতিক মহলে তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘদিন ধরেই তদন্ত চালাচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সেই তদন্তের অংশ হিসেবেই সোমবার তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের কিছু আগেই তিনি সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছে যান।

এদিন অবশ্য সিজিও কমপ্লেক্সে অতীতের মতো বাড়তি নিরাপত্তা বা বিশেষ নজরদারি দেখা যায়নি। অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়নি। সাংবাদিকদের যাতায়াতেও আগের মতো কড়াকড়ি ছিল না।

এর আগে রবিবার ভবানী ভবনে সিআইডি-র জেরার মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিষেক। বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলায় প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, ওই মামলায় তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের সঙ্গেও তাঁকে মুখোমুখি বসিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল।

শুধু সোমবার নয়, আগামী কয়েকদিনেও তদন্তকারী সংস্থার সামনে হাজিরা দিতে হতে পারে অভিষেককে। মঙ্গলবার সিআইডি আবার তাঁকে তলব করেছে। পাশাপাশি সল্টলেকে দায়ের হওয়া অন্য একটি অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবারও জিজ্ঞাসাবাদের পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থার।

নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে সিবিআইয়ের হাতে আসা একটি অডিয়ো ক্লিপ নিয়েও তদন্ত চলছে। ওই অডিয়োয় এক ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়’-এর নাম উল্লেখ ছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। সেই সূত্র ধরে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে অভিষেকের সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর আর্থিক লেনদেনও। ফলে সোমবারের দীর্ঘ জেরা শুধুমাত্র নিয়োগ মামলার নির্দিষ্ট প্রশ্নেই সীমাবদ্ধ ছিল না বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। রাজনৈতিক চাপানউতোরের আবহে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে এই মামলাকে ঘিরে জল্পনা ও নজর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর