কলকাতার মুকুন্দপুরে তৃণমূল কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওয়ার্ড অফিস ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অফিস থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক ডায়েরি ও নথি, যেখানে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রোমোটার এবং প্রতিষ্ঠানের নামের পাশে টাকার অঙ্ক লেখা রয়েছে। অভিযোগ, ওই নথিগুলিতে অর্থ লেনদেনের বিস্তারিত হিসাব সংরক্ষিত ছিল।
স্থানীয় সূত্রে দাবি, কলকাতা পৌরনিগমের ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর একটি সরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সময় তাঁর মুকুন্দপুরের ওয়ার্ড অফিসে এই নথিগুলি সামনে আসে। ঘটনাকে ঘিরে দ্রুত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ডায়েরিগুলিতে বিভিন্ন প্রোমোটারের নাম, সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেনের অঙ্ক এবং অন্যান্য হিসাব লিপিবদ্ধ ছিল। স্থানীয়দের দাবি, একাধিক নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ নেওয়ার উল্লেখ রয়েছে ওই নথিতে।
এছাড়াও একটি খাতায় চাকরি সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের হিসাব রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, বিভিন্ন সরকারি ও আধা-সরকারি ক্ষেত্রে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়ার অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে সেখানে। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, ওয়ার্ড অফিসে বিভিন্ন এলাকার নাম অনুযায়ী পৃথক তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে একাধিক ব্যক্তির নাম এবং আর্থিক অঙ্ক উল্লেখ ছিল বলে তাঁদের অভিযোগ।
তবে বিতর্ক আরও বেড়েছে অফিসের উপরের তলা ঘিরে। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে একটি সুসজ্জিত মেকআপ রুমের মতো পরিকাঠামো দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি কিছু ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই সমস্ত বিষয় নিয়ে এলাকায় নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।
এদিকে বিরোধী রাজনৈতিক শিবির এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছে। বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ অভিযোগ করেছেন, এই ঘটনা দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও তোলাবাজির সংস্কৃতির প্রতিফলন। তাঁর দাবি, উদ্ধার হওয়া নথিগুলি প্রকাশ্যে এলে আরও অনেক তথ্য সামনে আসতে পারে।
অন্যদিকে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, ওয়ার্ড অফিসে প্রশাসনিক ও জনসেবামূলক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং সামগ্রীই রয়েছে। বর্ষাকাল উপলক্ষে ত্রাণ সামগ্রী এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির কারণে কিছু জিনিসপত্র অফিসে রাখা হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি।
কাউন্সিলরের বক্তব্য, অফিসে কোনও তল্লাশি চলছে সে বিষয়ে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তিনি বলেন, প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাইলে সমস্ত নথি পরীক্ষা করতে পারে এবং সত্য সামনে আসবে।
ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। ফলে উদ্ধার হওয়া নথিগুলির সত্যতা, অভিযোগের ভিত্তি এবং সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ— সবকিছুই এখন তদন্ত ও যাচাইয়ের অপেক্ষায়।
তবে মুকুন্দপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা দাবির মাঝে নজর এখন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।



