২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশকে কেন্দ্র করে নতুন আইনি জটিলতায় পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস। কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ করে রাজনৈতিক সভা আয়োজনের অভিযোগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার নোটিস জারি করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, ২০১৮ সালে কলকাতা হাই কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশে বলা হয়েছিল, রাজনৈতিক সমাবেশের কারণে শহরের প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক করিডর সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা যাবে না। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের স্বার্থে মূল রাস্তাগুলি চলাচলের জন্য খোলা রাখতে হবে। ওই মামলায় তৃণমূল কংগ্রেস-সহ রাজ্যের একাধিক রাজনৈতিক দলকে পক্ষ করা হয়েছিল।
অভিযোগ, পরবর্তী সময়েও ধর্মতলায় আয়োজিত ২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশে ওই নির্দেশ পুরোপুরি মানা হয়নি। বিশেষ করে ২০২৫ সালের সমাবেশে ব্যাপক যানজট এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকার বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। সেই প্রেক্ষিতেই আদালত অবমাননার অভিযোগে নোটিস জারি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রতি বছর ২১ জুলাই ধর্মতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের শহিদ দিবসের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে লক্ষাধিক কর্মী-সমর্থক কলকাতায় এসে যোগ দেন। ফলে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যানবাহন চলাচলে প্রভাব পড়ে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের অভিযোগও ওঠে।
এদিকে এই আইনি বিতর্কের পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। দলের একাংশের বিদ্রোহ, সাংসদ ও বিধায়কদের অবস্থান পরিবর্তন এবং সাংগঠনিক প্রশ্নে মতভেদের খবর রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
এই আবহেই শুক্রবার দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের জন্য রওনা হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের দাবি, সংসদীয় স্বীকৃতি এবং দলীয় অবস্থান সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতেই তাঁর এই সফর। বিকেলে লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, দলের অভ্যন্তরে নেতৃত্ব, সাংগঠনিক কৌশল এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন মত সামনে আসছে। শাসকদলের বর্তমান পরিস্থিতি এবং আদালতের এই নোটিস আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
এখন নজর আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং এই নোটিসের জবাবে তৃণমূল নেতৃত্ব কী অবস্থান নেয়, তার দিকে। কারণ ২১ জুলাইয়ের সভা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, দীর্ঘদিন ধরেই তা তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান শক্তিপ্রদর্শনের মঞ্চ হিসেবে পরিচিত।



