তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টকে ঘিরে নতুন বিতর্ক সামনে এল। দলেরই এক বিদ্রোহী বিধায়ক পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে দাবি করেছেন, কয়েকটি অ্যাকাউন্টে বেআইনি উপায়ে অর্জিত অর্থ জমা থাকতে পারে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ বলে সূত্রের খবর।
রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের আর্থিক লেনদেন ও দলীয় অ্যাকাউন্ট নিয়ে জোর চর্চা চলছে। এর মধ্যেই এক বিদ্রোহী শিবিরঘনিষ্ঠ বিধায়ক বিধাননগর পুলিশের সাইবার শাখার কাছে একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগে নির্দিষ্ট কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং ও অনলাইন লেনদেনের মাধ্যমে ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে বিপুল অঙ্কের অর্থের আদান-প্রদান হয়েছে। সেই অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত তদন্তের আবেদন করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সময়মতো পদক্ষেপ না করা হলে সম্ভাব্য তথ্যপ্রমাণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে বলেও সূত্রের দাবি। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনও বিস্তারিত কোনও মন্তব্য করেনি।
ঘটনাপ্রবাহের সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। তৃণমূলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছিলেন। দলীয় সাংগঠনিক পরিবর্তনের পরও ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত কিছু আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ না হওয়ায় তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
এদিকে বিদ্রোহী বিধায়কের অভিযোগে যে তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের উল্লেখ রয়েছে, তার মধ্যে একটি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নামে এবং অন্য দুটি যথাক্রমে দলের ত্রিপুরা ও গোয়া ইউনিটের নামে নথিভুক্ত বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও অভিযোগপত্রে অ্যাকাউন্ট মালিকদের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি।
গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপুল নির্বাচনী ব্যয় নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অতীতে নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গোয়ায় প্রচার খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছিল দল। সেই প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলির আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিযোগের তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং তদন্তকারী সংস্থা কী তথ্য পায়, তার উপরই পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে। আপাতত অভিযোগ ও পাল্টা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই বিষয়টি রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্যতম আলোচিত ইস্যু হয়ে উঠেছে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলির সত্যতা সম্পর্কে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। তবে দলীয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ঘিরে এই নতুন বিতর্ক আগামী দিনে রাজনীতিতে আরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।



