রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক ভাঙন আরও স্পষ্ট হচ্ছে উত্তর ২৪ পরগনায়। পুরসভা থেকে গ্রাম পঞ্চায়েত— একের পর এক জনপ্রতিনিধির পদত্যাগের আবহে এবার শিউলি গ্রাম পঞ্চায়েতে বড়সড় ধাক্কা খেল শাসকদল। প্রধান অরুণকুমার ঘোষ-সহ মোট আটজন তৃণমূল সদস্য একযোগে পদত্যাগ করেছেন। একই দিনে নৈহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক চট্টোপাধ্যায়ও পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বারাকপুর ২ নম্বর ব্লকের বিডিও অফিসে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন শিউলি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অরুণকুমার ঘোষ এবং তৃণমূলের আরও সাত সদস্য। তাঁদের এই সিদ্ধান্তে পঞ্চায়েতের ক্ষমতার সমীকরণে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে শিউলি গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট ৩০টি আসনের মধ্যে ২৯টি আসনে সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে তৃণমূলের দখলে ছিল ২৪টি আসন। বিজেপির তিন এবং বামফ্রন্টের দুই সদস্য রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে একসঙ্গে আট সদস্যের পদত্যাগ রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা তৈরি করেছে।
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অরুণকুমার ঘোষ বলেন, বিধানসভা নির্বাচনে এলাকার মানুষ তাঁদের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। সেই জনরায়কে সম্মান জানাতেই তাঁরা স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী দিনে আরও কয়েকজন জনপ্রতিনিধি একই পথে হাঁটতে পারেন।
অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনার রাজনৈতিক অঙ্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে নৈহাটি পুরসভার ঘটনাও। সূত্রের দাবি, নৈহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক চট্টোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই ই-মেলের মাধ্যমে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এর আগে ওই পুরসভার দুই কাউন্সিলরও পদত্যাগ করেছিলেন। ফলে নৈহাটিতেও তৃণমূলের সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে বিভিন্ন পুরসভা, পুরনিগম এবং গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের পদত্যাগের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। কয়েকদিন আগেই বারাকপুর পুরসভার বোর্ড ভেঙে যায়। পাশাপাশি শিউলি গ্রাম পঞ্চায়েত সংলগ্ন মোহনপুর পঞ্চায়েতেও প্রশাসনিক পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধারাবাহিক পদত্যাগ শুধু রাজনৈতিক সমীকরণই বদলাচ্ছে না, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপরিষেবার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে রাস্তা, পানীয় জল, নিকাশি এবং অন্যান্য নাগরিক পরিষেবা পরিচালনার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উত্তর ২৪ পরগনায় শিউলি গ্রাম পঞ্চায়েত ও নৈহাটি পুরসভার এই পদত্যাগ পর্ব রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। আগামী দিনে আরও জনপ্রতিনিধি পদত্যাগ করেন কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।



