আদালতে পাশে দাঁড়ালেন না কোনও আইনজীবী, জাহাঙ্গিরের স্ত্রী রেজিনাকে ৩ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ

পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর হামলার ষড়যন্ত্র-সহ একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার জাহাঙ্গির খানের স্ত্রী রেজিনা বিবি। আদালতে তাঁর পক্ষে দাঁড়াতে রাজি হননি কোনও আইনজীবী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ফলতার স্বঘোষিত ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খানের গ্রেপ্তারের পর এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন তাঁর স্ত্রী রেজিনা বিবি ওরফে সারিকা। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর হামলার ষড়যন্ত্র, বেআইনি জমায়েত এবং একাধিক গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত রেজিনাকে শনিবার আদালতে তোলা হলে তাঁর পক্ষে সওয়াল করতে এগিয়ে আসেননি কোনও আইনজীবী। শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশে লিগ্যাল এইডের আইনজীবী তাঁর পক্ষে বক্তব্য পেশ করেন।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা এলাকার বহুচর্চিত এই ঘটনায় শনিবার রেজিনা বিবিকে গ্রেপ্তার করে ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর তিনি এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করছিলেন। উস্তি ও বিষ্ণুপুর থানার সীমানা সংলগ্ন জুলপিয়া এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর নিরাপত্তার স্বার্থে প্রথমে উস্তি থানায় রাখা হয় রেজিনাকে। পরে তাঁকে ডায়মন্ড হারবার এসিজেএম আদালতে হাজির করা হলে বিচারক আরিফ আহমেদ তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। তদন্তকারীদের দাবি, রেজিনার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনের পাশাপাশি বেআইনি জমায়েত, পুলিশি কাজে বাধা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর হামলার ছক এবং পুলিশ হেফাজত থেকে জাহাঙ্গির খানকে ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের অভিযোগ, কয়েকদিন আগে ফলতার শতলকলসা এলাকায় রেজিনা বিবির নেতৃত্বেই একটি বেআইনি জমায়েত সংগঠিত হয়েছিল। সেই জমায়েতের উদ্দেশ্য ছিল পুলিশ হেফাজতে থাকা জাহাঙ্গির খানকে মুক্ত করার পরিকল্পনা করা। এই ঘটনার তদন্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার।

আদালতে শুনানির সময় বিচারক রেজিনাকে একাধিক প্রশ্ন করেন। তাঁর পক্ষে কোনও আইনজীবী রয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, তাঁর কোনও ব্যক্তিগত আইনজীবী নেই। এরপর আদালতের লিগ্যাল এইড পরিষেবা থেকে একজন আইনজীবী তাঁর হয়ে সওয়াল করেন। তবে শুনানি শেষে জামিনের আবেদন খারিজ করে তাঁকে পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

অন্যদিকে, একই দিনে ছয় দিনের পুলিশ হেফাজত শেষে আদালতে হাজির করা হয় জাহাঙ্গির খানকেও। আদালত তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ৪ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

তদন্তকারী সূত্রে খবর, একুশের ভোট-পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত মামলার পাশাপাশি জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে আরও তিনটি পৃথক মামলা যুক্ত করা হয়েছে। ফলে জেল হেফাজতে থাকাকালীনই তাঁকে নতুন মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখিয়ে ফের আদালতে পেশ করা হতে পারে।

এদিকে এই ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। ফলতার বিজেপি বিধায়ক ও আইনজীবী দেবাংশু পাণ্ডা দাবি করেছেন, বর্তমানে এলাকায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে এবং অপরাধের বিরুদ্ধে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। তাঁর বক্তব্য, আইন ভঙ্গ করলে কোনওভাবেই রেহাই মিলবে না।

জাহাঙ্গির খান ও তাঁর স্ত্রী রেজিনাকে ঘিরে চলা তদন্ত এখন নতুন মোড়ে পৌঁছেছে। পুলিশের নজর এখন এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি এবং সম্ভাব্য নেটওয়ার্কের দিকে। আগামী কয়েকদিনের তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে তদন্তকারী মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন