তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তপ্ত ফলতা। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের অভিযোগে একাধিক জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার হয়েছেন ৮ জন।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মোড় নিল। তাঁর মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও অশান্তির ঘটনায় এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত আট জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দায়ের হওয়া মামলায় নাম রয়েছে জাহাঙ্গিরের স্ত্রী রেজিনা বিবি-রও।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার জাহাঙ্গির খানের সমর্থকদের একটি অংশ তাঁর মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভে সামিল হন। অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালীন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পুলিশ ও মোতায়েন থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, লুটপাট, মারধর এবং সরকারি প্রকল্পের অর্থ তছরুপের মতো অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে সম্প্রতি উত্তরবঙ্গের ভারত-নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।
বর্তমানে আদালতের নির্দেশে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। মঙ্গলবার তদন্তের স্বার্থে তাঁকে এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময় পুলিশি ব্যবস্থাপনা নিয়ে তাঁর অনুগামীদের একাংশ আপত্তি জানান বলে অভিযোগ।
এরপরই জাহাঙ্গিরের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতি শুরু হয়। অভিযোগ, থানা ঘেরাওয়ের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। স্থানীয় সূত্রের দাবি, রেজিনা বিবির নেতৃত্বে একদল সমর্থক বিক্ষোভ কর্মসূচি সংগঠিত করার চেষ্টা করছিলেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ করে পুলিশ। এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও নামানো হয়। এরপরই বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয় বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে বহু মানুষকে দৌড়ে পালাতে এবং জলাশয় পেরিয়ে সরে যেতে দেখা গিয়েছে। যদিও ওই ভিডিওগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, পুলিশি অভিযানের সময় গ্রেফতার এড়াতেই অনেকে এলাকা ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন।
ঘটনার পর পুলিশ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে। তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিও এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখছেন। ইতিমধ্যেই আট জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আরও কয়েক জনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ফলতার এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে। জাহাঙ্গির খানকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই উত্তেজনা আগামী দিনে আরও কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলের।



