লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই এবার পৌঁছে গেল স্পিকারের দফতরে। দলত্যাগ বিরোধী আইনের উল্লেখ করে ওই সাংসদদের সদস্যপদ বাতিলের দাবি জানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার দিল্লিতে লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক করে এই দাবি তুলে ধরেন তিনি।
অভিষেকের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ সাংসদ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সৌগত রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র এবং রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। বৈঠকে মূল আলোচ্য বিষয় ছিল দল ছেড়ে অন্য রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দেওয়া সাংসদদের সাংবিধানিক অবস্থান।
স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর অভিষেক দাবি করেন, সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী কোনও সাংসদ স্বেচ্ছায় দলত্যাগ করলে তাঁর সদস্যপদ খারিজ করা যেতে পারে। তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট ২০ জন সাংসদ অন্য রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে কার্যত তৃণমূলের সদস্যপদ ত্যাগ করেছেন।
এই প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন জনপ্রতিনিধি একই সঙ্গে দুটি রাজনৈতিক সত্তার অংশ কীভাবে হতে পারেন। তাঁর মতে, একবার অন্য দলে যোগ দিলে পূর্বতন দলের সাংসদ হিসেবে থাকার সাংবিধানিক ভিত্তি থাকে না।
অভিষেক আরও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট সাংসদদের পক্ষ থেকে যে ‘দলীয় সংযুক্তি’ বা মার্জারের যুক্তি তুলে ধরা হচ্ছে, তা সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক দলের দুই-তৃতীয়াংশ সাংগঠনিক কাঠামো অন্য দলে যোগ না দিলে প্রকৃত অর্থে দলীয় সংযুক্তি কার্যকর হয় না।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, শুধুমাত্র সংসদীয় দল বা সাংসদদের একটি অংশ অন্য দলে যোগ দিলেই সেটিকে বৈধ মার্জার হিসেবে গণ্য করা যায় না। এই বিষয়ে একাধিক সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কথাও স্পিকারের সামনে তুলে ধরা হয়েছে বলে দাবি করেন অভিষেক।
বিদ্রোহী সাংসদদের উদ্দেশে কড়া বার্তাও দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, যদি তাঁরা সত্যিই নতুন রাজনৈতিক অবস্থানকে সমর্থন করেন, তাহলে সাংসদ পদ ছেড়ে পুনর্নির্বাচনে অংশ নেওয়া উচিত। ভোটারদের রায়ই শেষ কথা হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে লোকসভার একাংশ সাংসদ নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করেছেন। এরপর থেকেই তাঁদের সাংসদ পদ, দলীয় পরিচয় এবং সাংবিধানিক অবস্থান নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এখন বল স্পিকারের কোর্টে। দলত্যাগ বিরোধী আইন, সাংসদদের দাবি এবং সাংবিধানিক বিধান— সবদিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে লোকসভার অধ্যক্ষকে। সেই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে দেশের সংসদীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে।
এখন নজর স্পিকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। কারণ এই মামলার ফলাফল শুধু সংশ্লিষ্ট সাংসদদের ভবিষ্যৎ নয়, দলবদল ও সাংবিধানিক বিধানের ব্যাখ্যাকেও নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসতে পারে।



