আড়াই বছর পর ফের ভারত-বাংলাদেশ ট্রেন! মৈত্রী এক্সপ্রেস চালু নিয়ে বড় খবর, কবে থেকে যাত্রা?

আড়াই বছর বন্ধ থাকার পর ফের ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর উদ্যোগ। প্রথমে কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দুই দেশের রেল কর্তাদের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

আড়াই বছর বন্ধ থাকার পর ফের ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন যোগাযোগ চালুর উদ্যোগ শুরু হয়েছে। আপাতত কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস (Maitree Express) দিয়েই পরিষেবা ফেরানোর বিষয়ে দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষ ইতিবাচক আলোচনা চালাচ্ছে। ভিসা ব্যবস্থা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ায় ট্রেন পরিষেবা ফের চালুর পথও তৈরি হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত বিষয় এবং যাত্রীভাড়া নিয়ে আলোচনা বাকি রয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকার বাংলাদেশ সচিবালয়ে বাংলাদেশের রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী (Dinesh Trivedi)। বৈঠকের পর তিনি জানান, মৈত্রী এক্সপ্রেসের যাত্রীদের জন্য খুব শীঘ্রই সুখবর দেওয়া সম্ভব হতে পারে। তাঁর বক্তব্যেই স্পষ্ট, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কলকাতা-ঢাকা রেল পরিষেবা ফেরানোর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছে।

বাংলাদেশের রেলমন্ত্রীও যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা ফের চালুর বিষয়ে দুই দেশই ইতিবাচক বলে জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ বন্ধ করা হয়েছিল। পরিষেবা পুনরায় চালুর জন্য ইতিমধ্যেই দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তাদের বিভিন্ন স্তরে আলোচনা হয়েছে। যদিও এখনও পুরো প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়নি।

শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চলাচলকারী তিনটি আন্তর্জাতিক ট্রেন পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেসের পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যায় কলকাতা-খুলনা বন্ধন এক্সপ্রেস এবং নিউ জলপাইগুড়ি-ঢাকা মিতালী এক্সপ্রেস।

এখন দুই দেশের ভিসা পরিষেবা আগের তুলনায় কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় রেল যোগাযোগও ধাপে ধাপে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে সূত্রের খবর, মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর আগে কয়েকটি প্রযুক্তিগত বিষয় মেটাতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় পরিষেবা বন্ধ থাকার পর যাত্রীভাড়া নতুন করে নির্ধারণ করা হবে কি না, তা নিয়েও দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।

অর্থাৎ, মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা এলেও এখনই নির্দিষ্ট যাত্রার তারিখ ঘোষণা হয়নি। নিরাপত্তা ব্যবস্থা, রেল পরিচালনার প্রযুক্তিগত বিষয় এবং ভাড়া সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পরেই পরিষেবা শুরুর দিনক্ষণ জানানো হতে পারে।

এদিকে বাংলাদেশ সফরে ভারতীয় হাইকমিশনারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। সেই সাক্ষাতে গঙ্গা, তিস্তা-সহ দুই দেশের অভিন্ন নদীগুলির জলের ন্যায্য বণ্টন নিয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি অভিন্ন নদীর জলবণ্টনের ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপের জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী জানান, এই বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

দীর্ঘ বিরতির পর মৈত্রী এক্সপ্রেস ফের চালুর উদ্যোগ তাই শুধু দুই দেশের যাত্রী যোগাযোগের ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ। এখন নজর থাকবে, কবে নিরাপত্তা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় চূড়ান্ত করে ট্রেনটির যাত্রার দিন ঘোষণা করা হয়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন