সক্রিয় রাজনীতি থেকে বরাবরই দূরত্ব বজায় রেখেছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (Sourav Ganguly)। কিন্তু রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হতেই বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুললেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। এক সাক্ষাৎকারে নতুন সরকারের কাজকর্ম নিয়ে নিজের মূল্যায়ন জানিয়ে সৌরভের বক্তব্য, এত অল্প সময়ে কোনও সরকারের পূর্ণাঙ্গ বিচার করা ঠিক নয়। তবে এখনও পর্যন্ত পারফরম্যান্স তাঁর কাছে বেশ ইতিবাচক বলেই মনে হয়েছে।
কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার থাকাকে বড় ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন সৌরভ। তাঁর মতে, রাজ্যে শিল্পের প্রসার এবং নতুন বিনিয়োগ আনা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন কারখানা তৈরি হলে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে। রাজ্যে ইতিমধ্যেই তিনটি ফ্যাক্টরির উদ্বোধন হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি আগামী দিনে আরও শিল্প আসার ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।
নতুন সরকারের কাজ নিয়ে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Shubhendu Adhikari) ভূমিকারও প্রশংসা করেছেন সৌরভ। একই সঙ্গে তাঁর সতীর্থ তথা রাজ্যের মন্ত্রী অশোক দিন্দার (Ashok Dinda) প্রতিও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি। তবে সরকারের সাফল্যের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য আরও সময় প্রয়োজন বলেই স্পষ্ট করেছেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক।
সৌরভের রাজনীতিতে যোগ দেওয়া নিয়ে জল্পনা অবশ্য নতুন নয়। অতীতেও একাধিক বার তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বার সেই প্রসঙ্গে নিজেই অবস্থান স্পষ্ট করে মহারাজ জানিয়েছেন, আপাতত রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কোনও ইচ্ছে তাঁর নেই। তবে ভবিষ্যতে কী হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এর পাশাপাশি বহুচর্চিত শালবনি ইস্পাত কারখানা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন সৌরভ। তাঁর দাবি, প্রকল্পের কাজের গতি ভালো রয়েছে। আগামী বছরের নভেম্বরের মধ্যে, অর্থাৎ প্রায় ১২-১৩ মাসের মধ্যে পুরো কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।
রাজনৈতিক ময়দানে সক্রিয় না হয়েও রাজ্যের শিল্প, বিনিয়োগ এবং প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে সৌরভের মন্তব্য স্বাভাবিক ভাবেই তাৎপর্যপূর্ণ। তবে তাঁর কথায় সবচেয়ে স্পষ্ট বার্তা একটাই—সরকারকে বিচার করার জন্য ১০০ দিন যথেষ্ট নয়, আর আপাতত রাজনীতিতে সরাসরি নামার কোনও পরিকল্পনাও তাঁর নেই।



