সোনার দামে ফের বড়সড় নড়াচড়া। বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর কলকাতার বাজারে ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৪,৬০০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের দাম ১,১৮,৭০০ টাকা হয়েছে বলে স্বর্ণশিল্প বাঁচাও কমিটির (SSBC) তথ্য। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার প্রভাব পড়ছে দেশীয় বাজারেও। ফলে যাঁরা সোনা কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের স্বাভাবিক প্রশ্ন—এই দাম কমার সময়েই কি কিনে ফেলা উচিত?
Goodreturns-এর সর্বভারতীয় সূচকেও এদিন সোনার দর আগের দিনের তুলনায় কমেছে। সেখানে ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রামে ১৪,১৪৫ টাকা এবং ২৪ ক্যারেটের দাম ১৫,৪৩১ টাকা দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি দেশের বাজারেও সোনার দরে কিছুটা নরম ভাব দেখা যাচ্ছে।
কলকাতায় বুধবার ২২ ক্যারেট সোনার ১০ গ্রামের দর ১,৪৪,৬০০ টাকা। ১৮ ক্যারেট সোনার ক্ষেত্রে ১০ গ্রামের দাম ১,১৮,৭০০ টাকা। রুপোর দরও নজরে রাখার মতো—কলকাতায় ১ কেজি রুপোর দাম ২,৩৭,০৮৭ টাকা বলে জানিয়েছে SSBC। গয়না কেনার ক্ষেত্রে এই দামের সঙ্গে ৩ শতাংশ GST অতিরিক্ত যোগ হবে।
সোনার দাম কেন কমছে, তার পিছনে একাধিক আন্তর্জাতিক কারণ কাজ করছে। আমেরিকার সুদের হার নিয়ে বাজারের প্রত্যাশা, ডলারের ওঠানামা, মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা এবং পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি—সবকিছুরই প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক সোনার বাজারে।
সাধারণত সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ডলারের শক্তিশালী অবস্থান সোনার দামের উপর চাপ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়লে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফলে বর্তমানে সোনার বাজারে একই সঙ্গে বিপরীতমুখী কয়েকটি শক্তি কাজ করছে।
এই কারণেই আগামী দিনে সোনার দাম কোন দিকে যাবে, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে দাম আরও কমতে পারে। আবার পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বেড়ে গেলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়িয়ে দাম ফের উপরের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
তাহলে এখনই কি সোনা কেনার সঠিক সময়? শুধুমাত্র একদিন বা কয়েকদিনের দাম কমাকে দেখে পুরো টাকা একবারে সোনায় বিনিয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। যাঁদের গয়না কেনার প্রয়োজন রয়েছে, তাঁরা চাইলে পুরো বাজেট একসঙ্গে না খরচ করে ধাপে ধাপে কেনার কথা ভাবতে পারেন। এতে দামের ওঠানামার ঝুঁকি কিছুটা সামলানো যায়।
আর যদি লক্ষ্য হয় বিনিয়োগ, তাহলে শুধু গয়না কেনাকেই একমাত্র পথ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। গয়নার ক্ষেত্রে মেকিং চার্জ ও GST-র মতো অতিরিক্ত খরচ রয়েছে। পরে বিক্রি করার সময়ও এই খরচের কারণে বিনিয়োগের প্রকৃত রিটার্ন প্রত্যাশার তুলনায় কম হতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে Gold ETF বা গোল্ড মিউচুয়াল ফান্ডের মতো বিকল্প নিয়েও ভাবা যায়। তবে কোন পথে বিনিয়োগ করা হবে, তা নির্ভর করবে ব্যক্তিগত আর্থিক লক্ষ্য, কতদিন টাকা রাখতে চান এবং কতটা ঝুঁকি নিতে পারবেন তার উপর। তাই বুধবারের এই দাম কমাকে ‘সোনার শেষ সুযোগ’ না ভেবে প্রয়োজন ও আর্থিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বেশি যুক্তিসঙ্গত।



