তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পদত্যাগ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। দলের জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য পদ-সহ সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিনের এই তৃণমূল নেতার পদত্যাগ রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, যিনি ‘বালু’ নামেও পরিচিত। দলের উত্থানপর্ব থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও দীর্ঘদিন পরিচিত ছিলেন তিনি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত সপ্তাহেই তাঁকে দলের জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য করা হয়েছিল। কিন্তু সেই দায়িত্ব পাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সমস্ত পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল বাড়িয়েছে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই দলীয় নেতৃত্বের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন জ্যোতিপ্রিয়।
পদত্যাগের কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছেন তিনি। রক্তে শর্করার মাত্রা অত্যন্ত বেশি এবং কিডনি সংক্রান্ত সমস্যাও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সক্রিয়ভাবে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না বলেই জানিয়েছেন তিনি।
রাজ্যের রাজনীতিতে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নাম দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত। বিধায়ক ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে দলীয় সংগঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিতর্ক এবং আইনি জটিলতার মধ্যেও দলীয় নেতৃত্ব তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হলেও জয় পাননি। নির্বাচনের পর থেকেই তাঁকে তুলনামূলকভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কম সক্রিয় দেখা গিয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে তাঁর এই পদত্যাগ আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
যদিও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক স্পষ্টভাবে শারীরিক কারণকেই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন, তবুও রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই পদক্ষেপের নেপথ্যে বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণ খুঁজে দেখার চেষ্টা করছে। তবে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক মন্তব্য সামনে আসেনি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই নেতার পদত্যাগ তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক কাঠামোয় কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে। আপাতত তাঁর স্বাস্থ্য এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েই জোর আলোচনা চলছে।



