তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের সংঘাত এবার নতুন মাত্রা পেল। দলের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে আর্থিক লেনদেন বন্ধের দাবিতে পুলিশের কাছে লিখিত আবেদন জানালেন বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়করা। অরূপ বিশ্বাসের ব্যাঙ্কে চিঠি পাঠানোর ঘটনার পর এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের কাছে একটি চিঠি জমা দেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বিধায়ক। ওই চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, বিধাননগর এলাকার বিভিন্ন ব্যাঙ্কে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের অ্যাকাউন্টগুলির লেনদেন আপাতত বন্ধ রাখা হোক।
চিঠিতে নাকি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কোন ব্যাঙ্কে দলের কোন কোন অ্যাকাউন্ট রয়েছে। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, বর্তমানে দলের অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনের পরিস্থিতিতে ওই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে অর্থ লেনদেন হলে তা ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি করতে পারে। সেই কারণেই অ্যাকাউন্টগুলি ‘ফ্রিজ’ করার আর্জি জানানো হয়েছে।
শুধু তাই নয়, পুলিশের কাছে দেওয়া আবেদনে নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করেছেন বিদ্রোহী বিধায়করা। ফলে দলীয় নেতৃত্ব ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সংঘাত যে আরও প্রকাশ্যে চলে এসেছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এর আগে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের শাখা ব্যবস্থাপককে চিঠি লিখে তৃণমূলের একটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানিয়েছিলেন। সেই চিঠিতে তিনি নিজেকে দলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও উল্লেখ করেছিলেন। অরূপের সেই পদক্ষেপকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক বিতর্ক নিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেও অরূপ বিশ্বাস একাধিক প্রশ্ন এড়িয়ে যান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান, দলীয় অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন কিংবা অন্যান্য বিতর্কিত প্রসঙ্গ— কোনও বিষয়েই বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি তিনি।
সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে অরূপ জানান, তাঁকে কোষাধ্যক্ষের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাবেন। পাশাপাশি চলতি বিভিন্ন বিতর্ক, এমনকি মেসি-সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরও তিনি এড়িয়ে যান। বারবার তিনি জানান, সময় হলে সব বিষয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখবেন।
তৃণমূলের আর্থিক অ্যাকাউন্ট নিয়ে এই টানাপড়েন রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে। আগামী দিনে দলীয় নেতৃত্ব এবং বিদ্রোহী শিবিরের এই দ্বন্দ্ব কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।



