বিশ্বকাপে প্রথম বড় অঘটন! কেপ ভার্দের ‘দেওয়াল’ ভোজিনহার সামনে থমকে গেল স্পেন, ব্যর্থ ইয়ামালও

বিশ্বকাপে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিল কেপ ভার্দে। ৪০ বছরের গোলকিপার ভোজিনহার দুরন্ত পারফরম্যান্সে ব্যর্থ লামিনে ইয়ামালরাও।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিশ্বকাপের মঞ্চে ফুটবল রূপকথার নতুন অধ্যায় লিখল কেপ ভার্দে। ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে বিশ্বকে চমকে দিল আফ্রিকার ছোট্ট দেশটি। আর সেই কীর্তির কেন্দ্রে ৪০ বছর বয়সি গোলকিপার ভোজিনহা, যাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সামনে বারবার ব্যর্থ হলেন পেদ্রি, রদ্রি, ফেরান তোরেসরা।

বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে ৬৭ নম্বরে থাকা কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে স্পেনকে স্পষ্ট ফেভারিট ধরা হয়েছিল। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে সেই হিসেব উল্টে দিলেন ভোজিনহা এবং তাঁর সতীর্থরা। ম্যাচ শেষ হল ০-০ ফলে, যা বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটন হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

ম্যাচের আগে চোটের কারণে লামিনে ইয়ামাল এবং নিকো উইলিয়ামসকে প্রথম একাদশে রাখেননি স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। ফলে আক্রমণে ভরসা করতে হয় গাভি, ফেরান তোরেস এবং মিকেল ওয়ারজাবালকে।

মাঝমাঠে রদ্রি এবং পেদ্রিরা বলের দখল পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও শেষ তৃতীয়াংশে গিয়ে বারবার সমস্যায় পড়ে স্পেন। উইং থেকে ধারালো আক্রমণের অভাব স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে।

বিশ্বকাপে প্রথম বড় অঘটন! কেপ ভার্দের ‘দেওয়াল’ ভোজিনহার সামনে থমকে গেল স্পেন, ব্যর্থ ইয়ামালও

বিশ্বকাপে প্রথম বড় অঘটন! কেপ ভার্দের ‘দেওয়াল’ ভোজিনহার সামনে থমকে গেল স্পেন, ব্যর্থ ইয়ামালও
বিশ্বকাপে প্রথম বড় অঘটন! কেপ ভার্দের ‘দেওয়াল’ ভোজিনহার সামনে থমকে গেল স্পেন, ব্যর্থ ইয়ামালও

প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ আসে ৩৮ মিনিটে। মার্ক কুকুরেয়ার নিখুঁত ক্রসে হেড করেছিলেন ফেরান তোরেস। কিন্তু সেখানেই শুরু হয় ভোজিনহার নায়কোচিত লড়াই। প্রথমে তোরেসের হেড, তারপর ফিরতি বলে ওয়ারজাবালের প্রচেষ্টা— দু’টিই অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলকিপার।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে আরও একবার তোরেসের মাটিঘেঁষা শট বাঁচিয়ে দেন তিনি। সামনে সাত জনের শক্ত রক্ষণ এবং পিছনে ভোজিনহার অদম্য উপস্থিতি স্পেনকে ক্রমশ হতাশ করে তোলে।

দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র দেখা যায়। স্পেন বল দখলে আধিপত্য বজায় রাখলেও গোলের মুখ খুলতে পারেনি। লাপোর্তের হেড, ওয়ারজাবালের শট— একের পর এক প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন ভোজিনহা।

ম্যাচের ৭০ মিনিটে অবশেষে লামিনে ইয়ামালকে মাঠে নামাতে বাধ্য হন স্পেন কোচ। কিন্তু কেপ ভার্দে কোচ বুবিস্তা সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর উপর বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করেন। ইয়ামালের গতি এবং সৃজনশীলতাকেও কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়।

৭২ মিনিটে মার্কোস লরেন্তের শক্তিশালী শটও আটকে দেন ভোজিনহা। সেই মুহূর্তে ম্যাচ যেন স্পেন বনাম ভোজিনহা হয়ে উঠেছিল।

পরিসংখ্যান বলছে, পুরো ম্যাচে স্পেন কেপ ভার্দের গোলমুখে ৮টি শট নেয়। বিপরীতে কেপ ভার্দে মাত্র একটি শট করতে সক্ষম হয়। তবু ফলাফল স্পেনের জন্য হতাশাজনক এবং কেপ ভার্দের জন্য ঐতিহাসিক।

এই ড্র শুধুমাত্র একটি পয়েন্ট অর্জনের গল্প নয়, এটি লড়াই, আত্মবিশ্বাস এবং অবিশ্বাস্য মানসিক দৃঢ়তার কাহিনি। দেড় লক্ষেরও কম জনসংখ্যার একটি দেশ ফুটবল মহাশক্তি স্পেনকে আটকে দিয়েছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন গল্পই বারবার ফুটবলকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।

তবে স্পেনের জন্য আশার জায়গাও রয়েছে। ২০১০ বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে হেরেও শেষ পর্যন্ত ট্রফি জিতেছিল তারা। তাই এই অপ্রত্যাশিত হোঁচট বিশ্বকাপ অভিযান থামিয়ে দেবে, এমনটা ভাবার কারণ নেই। কিন্তু কেপ ভার্দে এবং গোলকিপার ভোজিনহার এই লড়াই বিশ্বকাপের স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে বহুদিন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর