ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির মাঝেই নতুন উদ্বেগ ভারতীয় ক্রিকেট শিবিরে। চোটের কারণে আফগানিস্তান সিরিজে খেলতে না পারা হার্দিক পাণ্ডিয়া এবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজ থেকেও ছিটকে গেলেন। অন্যদিকে বিরাট কোহলির প্রত্যাবর্তন এখনও নিশ্চিত নয়। দলে জায়গা পেতে তাঁকে দিতে হবে বিশেষ ফিটনেস পরীক্ষা।
ভারতীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অলরাউন্ডার হার্দিক পাণ্ডিয়া দীর্ঘদিন ধরেই চোট সমস্যায় ভুগছেন। পিঠের চোটের কারণে আইপিএলের বেশ কয়েকটি ম্যাচ মিস করার পর তিনি বিসিসিআইয়ের সেন্টার অফ এক্সিলেন্সে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিলেন। আশা করা হয়েছিল, আফগানিস্তান সিরিজে তাঁকে ফের মাঠে দেখা যাবে।
তবে পুনর্বাসনের মাঝেই নতুন সমস্যার মুখে পড়েন হার্দিক। পায়ের মাংসপেশিতে চোট পাওয়ায় তাঁর প্রত্যাবর্তন আরও পিছিয়ে যায়। সূত্রের খবর, এখনও তিনি পুরো ১০ ওভার বল করার মতো শারীরিক অবস্থায় পৌঁছতে পারেননি। ফলে ১৪ জুলাই থেকে শুরু হতে চলা ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ থেকেও তাঁকে বাইরে থাকতে হচ্ছে।
ভারতের হয়ে হার্দিক শেষ একদিনের ম্যাচ খেলেছিলেন ২০২৫ সালের মার্চে, ICC Champions Trophy Final-এ নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচের পর আর জাতীয় দলের জার্সিতে ওয়ানডে খেলতে দেখা যায়নি তাঁকে।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে চলতি সিরিজে নেই বিরাট কোহলিও। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে তিনি সিরিজ থেকে ছিটকে যান। তাঁর পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছেন যশস্বী জয়সওয়াল।
তবে ইংল্যান্ড সিরিজে কোহলির খেলার সম্ভাবনা এখনও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। জানা গিয়েছে, তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন। ২৬ জুন ইংল্যান্ডে তাঁর ফিটনেস মূল্যায়ন করা হবে। সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই জাতীয় দলে ফেরার রাস্তা খুলবে।
বর্তমানে আফগানিস্তান সিরিজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন রোহিত শর্মা। বিশ্বকাপের আগে রোহিত ও কোহলির উপস্থিতি ভারতীয় দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। ফলে কোহলির ফিটনেস রিপোর্টের দিকে নজর রয়েছে সমর্থকদেরও।
এদিকে সম্প্রতি বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সইকিয়াকে রোহিত ও কোহলির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনও জল্পনায় জল ঢেলে দেননি। বরং স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দুই তারকা ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ নিয়ে বোর্ড প্রকাশ্যে কোনও আলোচনা করতে চায় না।
বিশ্বকাপের আগে একদিকে হার্দিকের অনুপস্থিতি, অন্যদিকে কোহলির ফিটনেস অনিশ্চয়তা— সব মিলিয়ে ভারতীয় দলের প্রস্তুতিতে কিছুটা হলেও চাপ তৈরি হয়েছে। এখন সমর্থকদের নজর ২৬ জুনের ফিটনেস পরীক্ষার দিকে।



