‘বাংলার ফুটবলে জোশ ফেরানোই লক্ষ্য’, নতুন করে বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমির স্বপ্ন মিঠুনের

বাংলার ফুটবলে নতুন প্রজন্মের প্রতিভা তুলে আনতে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমি ফের গড়তে চান মিঠুন চক্রবর্তী। প্রস্তাবিত প্রকল্প নিয়ে নিশীথ প্রামাণিকের সঙ্গে হয়েছে আলোচনা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলার ফুটবলে নতুন করে প্রাণ ফেরাতে উদ্যোগী অভিনেতা ও বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty)। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমি (Bengal Football Academy) নতুন করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছেন তিনি। গত মে মাসে এই উদ্যোগ নিয়ে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের (Nisith Pramanik) সঙ্গে কলকাতায় বৈঠকও করেছিলেন মিঠুন। তাঁর দাবি, প্রায় ১৫ বছর ধরে এই অ্যাকাডেমি তৈরির চেষ্টা করছেন তিনি।

ফুটবল মিঠুনের কাছে নতুন কোনও বিষয় নয়। বাংলার ফুটবল প্রতিভাদের তুলে আনার লক্ষ্যেই অতীতে বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। ১৯৯৭ সালে কলকাতায় এই অ্যাকাডেমি গড়ে ওঠার পিছনে তাঁর ভূমিকার কথাও অ্যাকাডেমির নিজস্ব পরিচিতিতে উল্লেখ রয়েছে।

তবে সময়ের সঙ্গে সেই উদ্যোগ প্রত্যাশামতো এগোয়নি। এবার ফের পুরনো স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে চাইছেন মিঠুন। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক কারণে আগের উদ্যোগ থমকে গিয়েছিল। নতুন সরকার দায়িত্বে আসার পর ফের অ্যাকাডেমি তৈরির কাজ শুরু করার বিষয়ে আশাবাদী তিনি।

নিশীথ প্রামাণিকের সঙ্গে বৈঠকে মূলত প্রস্তাবিত ফুটবল অ্যাকাডেমি নিয়েই আলোচনা হয়েছে। মিঠুনের পরিকল্পনায় বাংলার তরুণ ফুটবলারদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আরও বড় মঞ্চের জন্য তৈরি করার ভাবনা রয়েছে। বাংলায় ফুটবলের প্রতি যে আবেগ এখনও রয়েছে, সেই আবেগকে সংগঠিত পরিকাঠামোর মাধ্যমে প্রতিভা তৈরির কাজে ব্যবহার করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

ফুটবলের প্রতি মিঠুনের ব্যক্তিগত টানও দীর্ঘদিনের। অভিনয় জগতে বিপুল সাফল্য পাওয়ার পরেও বাংলার খেলাধুলোর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। অতীতে ফুটবলকে কেন্দ্র করে চ্যারিটি ম্যাচেও মাঠে নেমেছেন তিনি। ২০০৫ সালে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের দলের বিরুদ্ধে একটি চ্যারিটি ফুটবল ম্যাচে অংশ নিয়েছিলেন মিঠুন; সেই ম্যাচ থেকে সংগৃহীত অর্থ ত্রাণ তহবিলে দেওয়া হয়েছিল।

বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমির লক্ষ্যও বরাবর ছিল বাংলার ফুটবল প্রতিভাদের সামনে আনা। অতীতে এই অ্যাকাডেমির সঙ্গে যুক্ত তরুণ ফুটবলারদের মধ্যে কয়েকজন পরবর্তীতে বড় স্তরে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। অ্যাকাডেমির সঙ্গে মিঠুনের দীর্ঘদিনের যোগসূত্রের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এবার অবশ্য সামনে রয়েছে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু অ্যাকাডেমি তৈরি করলেই হবে না, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, উন্নত পরিকাঠামো, দক্ষ কোচিং, প্রতিভা বাছাই এবং প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ তৈরি করাও জরুরি। বাংলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে প্রতিভা খুঁজে এনে তাদের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের আওতায় আনা গেলে এই উদ্যোগ রাজ্যের ফুটবল পরিকাঠামোয় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

নিশীথ প্রামাণিকও মিঠুনের ফুটবলপ্রেমের প্রশংসা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এত বড় চলচ্চিত্র তারকা হওয়ার পরেও মিঠুন বাংলার সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবলের কথা ভুলে যাননি। বরং এখনও ফুটবলের জন্য কিছু করার আগ্রহ তাঁর রয়েছে।

ফলে মিঠুনের এই উদ্যোগ শুধু একটি অ্যাকাডেমি তৈরির পরিকল্পনা নয়, বাংলার ফুটবলে নতুন প্রজন্মের প্রতিভা তৈরির দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ১৫ বছরের পুরনো স্বপ্ন এবার বাস্তবে কতটা রূপ পায়, আর বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমি সত্যিই বাংলার মাঠে নতুন প্রতিভার জোশ ফিরিয়ে আনতে পারে কি না, এখন সেদিকেই নজর ক্রীড়ামহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন