পুজোর আগেই অতিভাল তৃণমূল (NCPI)-এর ১৭ জন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন—এমনই দাবি করেছেন কোচবিহারের তৃণমূল সাংসদ জগদীশ বসুনিয়া। তাঁর দাবি, মুর্শিদাবাদের তিন সংখ্যালঘু সাংসদকে বাদ দিলে NCPI-তে যোগ দেওয়া বাকি ১৭ জনই বিজেপিতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে সেই দাবিকে সরাসরি সমর্থন করেনি বিজেপি। বরং বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, শুধু কেউ বিজেপিতে যোগ দিতে চাইলেই তাঁকে দলে নেওয়া হবে—এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেই। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি কর্মীদের উপর কী ধরনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, দল তা ভুলে যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিজেপি রাজ্য সভাপতির কথায়, “যে কেউ যখন তখন বিজেপিতে যোগদান করতে চাইবেন আর তাকে বিজেপি নিয়ে নেবে এটা ভাবার কোনও কারণ নেই।” তাঁর বক্তব্য, বিজেপিতে যোগদানের ক্ষেত্রে দলের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও মূল্যায়ন রয়েছে।
জগদীশ বসুনিয়ার দাবিকে কটাক্ষ করে শমীক আরও বলেন, “আর যে বিজেপিতে যোগদান ওঁরা করতে চাইছেন সেটা হয়তো মঙ্গল গ্রহের বিজেপি।” অর্থাৎ, NCPI-এর সাংসদদের বিজেপিতে যোগদানের যে দাবি কোচবিহারের সাংসদ করেছেন, তার সঙ্গে বঙ্গ বিজেপির বর্তমান অবস্থানের কোনও মিল নেই—এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত জগদীশ বসুনিয়ার একটি মন্তব্যকে ঘিরে। কোচবিহারের তৃণমূল সাংসদ দাবি করেন, প্রথমে তাঁদের লক্ষ্য ছিল সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়া। কিন্তু দলত্যাগ বিরোধী আইনের কারণে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাংসদ না থাকায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি বলে তাঁর দাবি।
বসুনিয়ার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য ২০ জন সাংসদের প্রয়োজন ছিল। তিন জন সাংসদ সরাসরি বিজেপিতে যেতে রাজি না হওয়ায় তাঁদের উদ্যোগেই বাকি সাংসদরা অতিভাল তৃণমূল (NCPI)-এ যোগ দেন বলে দাবি তাঁর। তাঁর কথায়, NCPI-তে যোগদানের অনুমোদন পাওয়ার পর বিজেপিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনও বাধা থাকবে না।
তবে জগদীশ বসুনিয়ার বক্তব্যের সঙ্গে একমত হওয়ার কোনও ইঙ্গিত দেননি NCPI-তে যোগ দেওয়া অন্যান্য সাংসদরা। এ বিষয়ে তাঁরা প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফলে ১৭ সাংসদের বিজেপিতে যোগদানের দাবি আপাতত জগদীশ বসুনিয়ার বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারও বিষয়টি নিয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাঁর বক্তব্য, জগদীশ বসুনিয়া কী বলছেন, তার ভিত্তিতে বিজেপি সিদ্ধান্ত নেয় না। বিজেপির কাছে এমন কোনও নিশ্চিত তথ্য থাকলে দলই তা জানাত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দেবজিৎ সরকারের বক্তব্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। তাঁর দাবি, অতিভাল তৃণমূল (NCPI)-এ যোগ দিলেও দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রযোজ্য হবে এবং বিজেপিতে সরাসরি যোগ দিলেও সেই আইন প্রযোজ্য হবে। কোনও সাংসদকে বিজেপিতে নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই নেয় বলেও জানান তিনি।
অর্থাৎ, পুজোর আগে NCPI-এর ১৭ সাংসদের বিজেপিতে যোগদানের যে দাবি সামনে এসেছে, তার রাজনৈতিক তাৎপর্য থাকলেও এই মুহূর্তে বিজেপির তরফে সেই যোগদানের কোনও নিশ্চিত ঘোষণা নেই। ফলে জগদীশ বসুনিয়ার দাবি এবং বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট ফারাকই থাকছে।



