দিল্লিতে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেই সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলল ভারত। তরুণ বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে জল্পনার মধ্যেই আরও একবার সুযোগ পেয়েছিলেন সঞ্জু স্যামসন। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সমালোচকদের জবাব দিলেন তিনি। মাত্র ২২ বলে ৫৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে ভারতকে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন সঞ্জু। তাঁর সঙ্গে অভিষেক শর্মার ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে মাত্র ১৪.৫ ওভারেই ১৬০ রানের লক্ষ্য টপকে গেল টিম ইন্ডিয়া।
আফগানিস্তান প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৫৯ রান তুলেছিল। ভারতের বোলিং আক্রমণের সামনে শুরু থেকেই চাপে ছিল আফগান ব্যাটিং। তবে শেষদিকে রশিদ খান ও মোহাম্মদ নবির পাল্টা আক্রমণে লড়াই করার মতো জায়গায় পৌঁছয় তারা। ভারতের হয়ে নীতীশ কুমার রেড্ডি তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে আফগান ব্যাটিংয়ে বড় ধাক্কা দেন।
জবাবে ভারতীয় ইনিংসের শুরুটাই হয়ে ওঠে ঝড়ের মতো। ম্যাচের আগে সবচেয়ে বেশি আলোচনা ছিল বৈভব সূর্যবংশী খেলবেন কি না, তা নিয়ে। শেষ পর্যন্ত তরুণ ওপেনারকে বাইরে রেখেই সঞ্জু স্যামসনের উপর আস্থা রাখে টিম ম্যানেজমেন্ট। নিজের জায়গা ধরে রাখতে এই ম্যাচটি যে তাঁর কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা ব্যাট হাতেই বুঝিয়ে দিলেন সঞ্জু।
আফগান বোলারদের শুরু থেকেই আক্রমণ করেন তিনি। মাত্র ২২ বলেই ৫৭ রান করে ভারতকে দ্রুত জয়ের দিকে এগিয়ে দেন। তাঁর ইনিংসে ছিল চার ও ছক্কার ঝড়। এই ইনিংসের সুবাদে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ওপেনার হিসেবে এক হাজার রানও পূর্ণ করেন সঞ্জু। ভারতীয়দের মধ্যে ওপেনার হিসেবে এই মাইলফলক ছোঁয়া ক্রিকেটারদের তালিকায় এবার তাঁর নামও উঠে এল।
সঞ্জুর সঙ্গে ওপেনিংয়ে ঝড় তোলেন অভিষেক শর্মাও। মাত্র ১৯ বলে ৩৯ রান করেন তিনি। দুই ওপেনারের ব্যাটিংয়ের দাপটে মাত্র ৭.১ ওভারেই ভারতের স্কোর ১০০ পেরিয়ে যায়। ফলে ম্যাচের ফলাফল তখনই অনেকটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল।
এরপর অবশ্য আফগানিস্তানের অধিনায়ক রশিদ খান নিজের ঘূর্ণিতে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন। ঈশান কিষান এবং শ্রেয়স আইয়ারকে সাজঘরে ফিরিয়ে ভারতীয় শিবিরে সাময়িক চাপ তৈরি করেছিলেন তিনি। মাত্র তিন উইকেট নিয়েই আফগানিস্তানের হয়ে বোলিংয়ের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হয়ে ওঠেন রশিদ।
কিন্তু লক্ষ্যটা এতটাই কম ছিল যে তাঁর বোলিংয়ের প্রভাবও শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল বদলাতে পারেনি। মাত্র ১৪.৫ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৬৩ রান তুলে নেয় ভারত। ফলে ৭ উইকেটের বড় জয় আসে টিম ইন্ডিয়ার।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই সমস্যায় পড়ে আফগানিস্তান। ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ কোনও রান না করেই ফিরে যান। অপর ওপেনার ইব্রাহিম জাদরানও খুব একটা গতি আনতে পারেননি। ৩৩ বলে ৩৭ রান করে আউট হন তিনি।
মিডল অর্ডারেও একের পর এক উইকেট পড়তে থাকে। একটা সময় ১০০ রানেই ছয় উইকেট হারিয়ে কার্যত বড় বিপদের মুখে পড়েছিল আফগানিস্তান। তখন মনে হচ্ছিল, ১৪০-১৫০ রানও হয়তো হবে না।
সেখান থেকেই ম্যাচের চেহারা কিছুটা বদলে দেন রশিদ খান। ব্যাট হাতে মাত্র ১৬ বলে ২৮ রান করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তিনি। তাঁর সঙ্গে মোহাম্মদ নবিও ১৪ বলে ২০ রান যোগ করেন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৯ রান তোলে আফগানিস্তান।
ভারতের হয়ে নীতীশ রেড্ডির বোলিং ছিল বিশেষভাবে কার্যকর। ২৪ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নিয়ে আফগান ব্যাটিংয়ের ভিত নড়িয়ে দেন তিনি। ভারতের অন্য বোলাররাও নিয়মিত চাপ তৈরি করে গিয়েছেন। তবে শেষ দিকে রশিদ ও নবির আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের কারণে স্কোর কিছুটা সম্মানজনক জায়গায় পৌঁছয়।
দিল্লির উইকেটে ১৬০ রানের লক্ষ্য যে ভারতের মতো ব্যাটিং লাইনআপের বিরুদ্ধে যথেষ্ট নয়, তা পরিষ্কার হয়ে যায় প্রথম কয়েক ওভারেই। অভিষেক ও সঞ্জুর ব্যাটিং আফগানিস্তানের যাবতীয় পরিকল্পনা ভেস্তে দেয়।
এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় বার্তা অবশ্য সঞ্জু স্যামসনের ব্যাট থেকে এসেছে। বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে যখন সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা তুঙ্গে, তখন নিজের জায়গা নিয়ে প্রশ্নের উত্তর মাঠেই দিলেন সঞ্জু। চাপের ম্যাচে দ্রুত ৫৭ রান করে শুধু দলকে জেতাননি, নিজের আত্মবিশ্বাসও ফেরালেন।
দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজ এক ম্যাচ বাকি থাকতেই নিজেদের করে নিল ভারত। অর্থাৎ শেষ ম্যাচটি এখন আফগানিস্তানের কাছে সম্মানরক্ষার লড়াই, আর ভারত নামবে সিরিজ ৩-০ করার লক্ষ্য নিয়ে। দিল্লির এই জয় নিঃসন্দেহে ভারতীয় দলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে।



