পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটের আবহে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে ওঠানামার মধ্যেই পেট্রোল, ডিজেল ও বিমান জ্বালানি ATF-এর রফতানি শুল্ক কমাল কেন্দ্র। অর্থ মন্ত্রকের নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী দুই সপ্তাহের জন্য সংশোধিত হার কার্যকর হয়েছে। পেট্রোলের রফতানি শুল্ক লিটারপিছু ১ টাকা, ডিজেলের ৫ টাকা এবং ATF-এর ৪ টাকা কমানো হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় পেট্রোলের রফতানি শুল্ক লিটারপিছু ১.৫০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ৫০ পয়সা। অর্থাৎ প্রতি লিটারে ১ টাকা করে কমানো হয়েছে এই শুল্ক।
ডিজেলের ক্ষেত্রেও বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। মোট রফতানি শুল্ক লিটারপিছু ২৫ টাকা থেকে কমিয়ে ২০ টাকা করা হয়েছে। এর মধ্যে স্পেশাল অ্যাডিশনাল এক্সাইজ ডিউটি বা SAED ২৪ টাকা থেকে কমে হয়েছে ২০ টাকা।
ডিজেলের ক্ষেত্রে আগে যে লিটারপিছু ১ টাকা রোড অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেস বা RIC ছিল, নতুন কাঠামোয় সেটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে ডিজেল রফতানির উপর মোট চাপ কমেছে ৫ টাকা প্রতি লিটার।
বিমান জ্বালানি অর্থাৎ এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)-এর ক্ষেত্রেও শুল্ক কমানো হয়েছে। লিটারপিছু ১৯ টাকা থেকে কমিয়ে নতুন রফতানি শুল্ক করা হয়েছে ১৫ টাকা। ফলে ATF রফতানিকারকদের উপরও আগের তুলনায় কম করের বোঝা থাকবে।
এই সিদ্ধান্তের সময়কালও গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্র প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর পেট্রোলিয়াম পণ্যের রফতানি শুল্ক পর্যালোচনা করে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল, পেট্রোল, ডিজেল ও ATF-এর গড় দামের ভিত্তিতেই সংশোধিত হার নির্ধারণ করা হয়।
২০২৬ সালের ২৭ মার্চ প্রথম এই রফতানি শুল্ক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটের সময় দেশের অভ্যন্তরে পেট্রোলিয়াম পণ্যের পর্যাপ্ত জোগান বজায় রাখা এবং রফতানিকে নিরুৎসাহিত করাই ছিল সেই ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য। পরে আন্তর্জাতিক বাজারদরের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একাধিকবার শুল্কের হার সংশোধন করা হয়েছে।
এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতেও পেট্রোলিয়াম পণ্যের রফতানি শুল্কের কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছিল। এবার ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ফের নতুন হার কার্যকর হল। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী জ্বালানি রফতানির উপর করের কাঠামোকে নিয়মিত সামঞ্জস্য করছে কেন্দ্র।
তবে এই সিদ্ধান্তকে দেশের পেট্রোল-ডিজেলের পাম্পের দামের সঙ্গে সরাসরি এক করে দেখা ঠিক হবে না। অর্থ মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত পেট্রোল ও ডিজেলের উপর প্রযোজ্য আবগারি শুল্কের হারে এই সিদ্ধান্তে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি।
রফতানি শুল্ক কমানোর ফলে ভারতীয় রিফাইনারদের বিদেশে পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে করের চাপ কিছুটা কমবে। আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে এই নয়া কর কাঠামো কীভাবে সামঞ্জস্য তৈরি করে, আগামী দুই সপ্তাহের রফতানি ও জ্বালানি বাজারের গতিবিধিতে তার প্রভাব দেখা যেতে পারে।
তবে এই হার স্থায়ী নয়। আগামী দুই সপ্তাহের আন্তর্জাতিক গড় দামের তথ্য পর্যালোচনা করে কেন্দ্র ফের রফতানি শুল্কের হার পরিবর্তন করতে পারে। ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এবং পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির উপরই এখন পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করছে।



