২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। বিশ্বকাপের প্রায় এক বছর আগে থেকেই দল গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় দলের প্রাক্তন অলরাউন্ডার যুবরাজ সিংয়ের পরামর্শ, শেষ মুহূর্তে বড়সড় রদবদল না করে এখন থেকেই একটি নির্দিষ্ট কোর টিম তৈরি করা হোক।
২০১১ বিশ্বকাপজয়ী তারকার মতে, বিশ্বকাপের আগে একটি নির্দিষ্ট দলকে নিয়মিত খেলানোর উপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। ক্রিকইনফোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যুবরাজ জানিয়েছেন, ১৬ থেকে ২০ জন ক্রিকেটারকে নিয়ে একটি কোর গ্রুপ তৈরি করে তাঁদের পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ দেওয়া উচিত।
যুবরাজের বক্তব্য, “এক বছর পরে যে দলটা খেলবে, সেই দলটাই তৈরি করার দিকে নজর দিতে হবে। শেষ মুহূর্তে বড় পরিবর্তন কেউ চায় না।” তাঁর মতে, ৫০ ওভারের ক্রিকেটের ম্যাচের সংখ্যা ক্রমশ কমছে, অন্যদিকে টি-২০ ম্যাচের সংখ্যা বাড়ছে। তাই হাতে যে ক’টি ওয়ানডে রয়েছে, সেগুলিতে বিশ্বকাপের সম্ভাব্য খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত ম্যাচ টাইম দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু দল বাছাই করলেই হবে না, সেই দলের উপর বিশ্বাস রাখাও জরুরি বলে মনে করেন যুবরাজ। তাঁর মতে, কোনও খেলোয়াড় বা দল কয়েকটি ম্যাচে ব্যর্থ হলেই বারবার পরিবর্তন করলে বিশ্বকাপের আগে স্থিরতা তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে।
যুবরাজ অতীতের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, বড় টুর্নামেন্টে ভারতের সমস্যা তৈরি হয়েছে এমন সময়, যখন শেষ মুহূর্তে বড় পরিবর্তন করা হয়েছে। তাই ২০২৭ বিশ্বকাপ জিততে পারে বলে যে দলকে মনে করা হচ্ছে, সেই দলকে বেছে নিয়ে টুর্নামেন্ট পর্যন্ত তাদের পাশে থাকা প্রয়োজন বলে মত তাঁর।
এই বক্তব্যের সময় স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় চলে এসেছে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির নাম। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটারই টেস্ট ও টি-২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। তবে ওয়ানডেতে তাঁরা এখনও ভারতের পরিকল্পনার অংশ। ১৬ সেপ্টেম্বর ঘোষিত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের ভারতীয় দলে রোহিত ও বিরাট দু’জনকেই রাখা হয়েছে। শুবমন গিল অধিনায়ক এবং কেএল রাহুল সহ-অধিনায়ক।
তবে ২০২৭ সালের বিশ্বকাপে রোহিত বা বিরাট খেলবেন কি না, সেই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি। রোহিত সম্প্রতি বলেছেন, ২০২৭ সালের অক্টোবর এখনও অনেক দূরের বিষয়। ফলে বিশ্বকাপের দল নিয়ে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জায়গায় পৌঁছনো হয়নি।
যুবরাজের বক্তব্যে অবশ্য কোনও নির্দিষ্ট ক্রিকেটারের নাম বাদ দেওয়া বা অন্তর্ভুক্ত করার দাবি নেই। তাঁর মূল বার্তা দল নির্বাচন ও প্রস্তুতির ধারাবাহিকতা নিয়ে। তাঁর মতে, যে ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় রাখা হবে, তাঁদের নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ দিতে হবে, যাতে বড় টুর্নামেন্টের আগে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা তৈরি হয়।
২০২৪ এবং ২০২৬ সালের টি-২০ বিশ্বকাপের উদাহরণও দিয়েছেন যুবরাজ। তাঁর মতে, সাদা বলের ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সাফল্যের পিছনে দলীয় ধারাবাহিকতার একটি ভূমিকা ছিল। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও ভারত ফাইনাল খেলেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্যও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার উপর জোর দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে ভারতের ২০২৬-২৭ মরসুমের ঘরের মাঠের ওয়ানডে অভিযান শুরু হবে। সেই সিরিজ থেকেই বিশ্বকাপের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব শুরু হতে পারে। রোহিত-বিরাটের মতো অভিজ্ঞদের পাশাপাশি নতুনদের সুযোগ দেওয়া এবং তাঁদের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করাই এখন দল পরিচালনার অন্যতম আলোচ্য বিষয়।
২০২৭ সালের বিশ্বকাপের এখনও এক বছরের বেশি সময় বাকি। ফলে এই সময়ের মধ্যে চোট, ফর্ম, দলীয় প্রয়োজন এবং নির্বাচকদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ছবিতে পরিবর্তন আসতেই পারে। তবে যুবরাজের পরামর্শ স্পষ্ট—বিশ্বকাপ যত এগিয়ে আসবে, ততই হঠাৎ বড় পরিবর্তনের বদলে প্রস্তুত খেলোয়াড়দের নিয়ে স্থিতিশীল দল গড়ার দিকে নজর দেওয়া উচিত।



