ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ভারতের আসন্ন সিরিজের দল ঘোষণার পরই আলোচনায় মহম্মদ শামি (Mohammed Shami) ও ভুবনেশ্বর কুমার (Bhuvneshwar Kumar)। দুই অভিজ্ঞ পেসারই এবারের স্কোয়াডে জায়গা পাননি। এই সিদ্ধান্তের পর ভারতের প্রাক্তন ওপেনার ও ধারাভাষ্যকার আকাশ চোপড়া (Aakash Chopra) মনে করছেন, নির্বাচকদের দল নির্বাচনে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ইঙ্গিত স্পষ্ট। তাঁর ব্যাখ্যায়, একাধিক তরুণ পেসারকে সুযোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে শামি ও ভুবনেশ্বরের জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
শামির ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ভারতকে ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। এরপর চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়। প্রত্যাবর্তনের পর ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেছেন এবং পারফরম্যান্সও করেছেন। ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও ভারতীয় দলের অংশ ছিলেন। কিন্তু তার পর থেকে জাতীয় দলের সাদা বলের পরিকল্পনায় তাঁকে আর দেখা যায়নি।
ভুবনেশ্বরের জাতীয় দলে অনুপস্থিতির সময় আরও দীর্ঘ। ভারতের হয়ে তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছিল ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে। এরপর জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেট এবং আইপিএলে নিয়মিত পারফর্ম করে নিজের ফিটনেস ও বোলিংয়ের ধার বজায় রেখেছেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক আইপিএল মরশুমে তাঁর পারফরম্যান্স নতুন করে আলোচনায় এসেছিল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের দল ঘোষণার পর নিজের ইউটিউব চ্যানেলে আকাশ চোপড়া বলেন, তাঁর কাছে নির্বাচকদের সিদ্ধান্তের মধ্যে একটি বার্তা রয়েছে। তাঁর মতে, টি-টোয়েন্টির জন্য ভুবনেশ্বর এবং ওয়ানডের জন্য শামিকে বিবেচনা করার সুযোগ থাকলেও কোনও ফরম্যাটের দলেই তাঁদের রাখা হয়নি।
আকাশের বক্তব্যের মূল যুক্তি তরুণ পেসারদের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি ঘিরে। আকিব নবি, ময়ঙ্ক যাদব এবং প্রিন্স যাদবের মতো অপেক্ষাকৃত তরুণ বোলারদের দলে রাখা হয়েছে। ফলে নির্বাচকদের পরিকল্পনায় অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য নতুন মুখ তৈরির দিকটিও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি।
তবে আকাশ চোপড়ার মন্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ। নির্বাচকরা আনুষ্ঠানিকভাবে শামি বা ভুবনেশ্বরের আন্তর্জাতিক কেরিয়ার শেষ হয়ে গিয়েছে—এমন কোনও ঘোষণা করেননি। তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে জায়গা না পাওয়াকেই দুই পেসারের জাতীয় দলের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
শামি শেষবার ভারতের হয়ে খেলেছিলেন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। এরপর ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর উপস্থিতি থাকলেও জাতীয় দলের নির্বাচনে তাঁকে আর দেখা যায়নি। অন্যদিকে ভুবনেশ্বরের আন্তর্জাতিক প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা চলছে ২০২২ সালের পর থেকেই। দুই ক্রিকেটারের অভিজ্ঞতা ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স থাকলেও নির্বাচকদের বর্তমান পরিকল্পনায় তরুণ পেসারদের গুরুত্ব যে বেড়েছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের দল সেই ছবিটাই সামনে এনেছে।
ফলে শামি ও ভুবনেশ্বরের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তাঁরা আবার জাতীয় দলের নির্বাচকদের নজরে ফিরতে পারবেন কি না। আপাতত সেই উত্তর নির্ভর করবে তাঁদের পারফরম্যান্স, ফিটনেস এবং নির্বাচকদের ভবিষ্যৎ দলগঠন পরিকল্পনার উপর। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের স্কোয়াডে তাঁদের অনুপস্থিতি সেই বিতর্ককেই আরও উসকে দিয়েছে।



