নন্দীগ্রামের পর রেজিনগরেও কি প্রার্থী হারাচ্ছে মমতার শিবির? রবিউলকে ঘিরে জোর জল্পনা

নন্দীগ্রামে মমতা-শিবিরের প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর পর রেজিনগরেও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। রবিউল ইসলাম এখনও ভোটে লড়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেননি বলে জানিয়েছেন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা দে প্রধান মনোনয়ন প্রত্যাহার করার পর এবার নজর রেজিনগরের দিকে। শনিবারই মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। তার মধ্যেই মমতা-শিবিরের রেজিনগরের প্রার্থী রবিউল ইসলাম আদৌ ভোটে লড়বেন কি না, তা নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার নতুন নাম ও ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক পাওয়ার পরও রবিউল জানিয়েছিলেন, নির্বাচনে লড়াই করা নিয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরকে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক দিয়েছে। তার পরেই নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা দে প্রধান মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। ফলে ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের আগে রেজিনগরের রবিউলকে ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

শুক্রবার রবিউল ইসলামকে ভোটে লড়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর আনুগত্যের কথা স্পষ্ট করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ছিল, দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে নির্দেশ দেবেন, সেই অনুযায়ীই তিনি চলবেন।

এর পর থেকেই শনিবারের দিকে নজর ছিল রাজনৈতিক মহলের। কারণ, এদিনই মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সুযোগ। ফলে রবিউল শেষ পর্যন্ত প্রার্থীপদ রাখবেন, নাকি সঞ্চিতার পথেই মনোনয়ন তুলে নেবেন—তা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।

শনিবার সকালে অবশ্য রবিউলের বাড়ির সামনে অন্য ছবি দেখা যায় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বাড়ির সামনের রাস্তায় দলীয় কর্মীদের তেমন উপস্থিতি ছিল না। প্রচারেরও কোনও দৃশ্য চোখে পড়েনি। রবিউল নিজেও বাইরে বেরোননি বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

সূত্রের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, শুক্রবার রাতে রবিউলকে নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছিল। সেখানে দলের কর্মীদের একাংশ তাঁকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। কর্মীদের একটি অংশ নাকি চাইছেন না, রবিউল এই উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন। এই দাবির স্বাধীন কোনও নিশ্চিতকরণ অবশ্য এখনও সামনে আসেনি।

এর মধ্যেই শুক্রবার রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রবিউলের কথাও হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। সেই কথোপকথনের পর রবিউল কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কারণ শনিবারের পর মনোনয়ন প্রত্যাহারের আর কোনও সুযোগ থাকবে না।

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই আসনেই মমতা-শিবিরের প্রার্থীদের ঘিরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে নির্বাচন কমিশনের দলীয় নাম ও প্রতীক সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পর। কমিশন মূল ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীকের ব্যবহার আপাতত বন্ধ রেখে দুই গোষ্ঠীকে আলাদা নাম ও প্রতীক দিয়েছে।

নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা দে প্রধান ইতিমধ্যেই সরে দাঁড়িয়েছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে রেজিনগরে রবিউল ইসলাম এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেননি। ফলে শনিবারের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত রেজিনগরের পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর থাকছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন