৫০ ওভারের ক্রিকেট বিশ্বকাপ (ICC Men’s Cricket World Cup) এবার আর আগের মতো হবে না। ২০২৭ সালের বিশ্বকাপে ১৪টি দল খেললেও সরাসরি একই গ্রুপে লিগ পর্ব এবং তারপর সেমিফাইনালের পুরনো কাঠামো থাকছে না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) ইতিমধ্যেই নতুন তিন ধাপের ফরম্যাট ঘোষণা করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে ও নামিবিয়ায় হতে চলা এই বিশ্বকাপে প্রথমে তিনটি সর্বনিম্ন র্যাঙ্কের দলের মধ্যে ‘সুপার সিরিজ’, তারপর ১২ দলের মূল পর্ব এবং শেষে সাত দলের ‘সুপার ৭’ পর্ব হবে।
২০২৭ সালের বিশ্বকাপ হবে ১৪ দলের প্রতিযোগিতা। প্রথমে যোগ্যতা অর্জন করা ১৪টি দলের মধ্যে র্যাঙ্কিংয়ে ১২ থেকে ১৪ নম্বরে থাকা তিন দল মুখোমুখি হবে একটি রাউন্ড-রবিন সুপার সিরিজে। এই পর্বে যে দল শীর্ষে থাকবে, তারাই মূল ১২ দলের পর্বে জায়গা করে নেবে। অর্থাৎ টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব থাকবে।
এরপর ১২টি দলকে দু’টি গ্রুপে ভাগ করা হবে। প্রতিটি গ্রুপে থাকবে ছয়টি করে দল এবং প্রত্যেক দল নিজেদের গ্রুপের অন্য পাঁচ দলের বিরুদ্ধে খেলবে। এই পর্বে মোট ৩০টি ম্যাচ হবে। দুই গ্রুপের প্রথম তিনটি করে দল সরাসরি পরের পর্বে যাবে। পাশাপাশি দুই গ্রুপের চতুর্থ স্থানে থাকা দলের মধ্যে যে দলটির ফল সবচেয়ে ভালো, তারাও জায়গা করে নেবে পরের ধাপে।
এখানেই আসছে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। সাতটি দল নিয়ে তৈরি হবে সুপার ৭ পর্ব। এই সাত দল প্রত্যেকেই একে অপরের বিরুদ্ধে খেলবে। ফলে এই পর্যায়ে মোট ২১টি ম্যাচ হবে। লিগ শেষে পয়েন্ট তালিকার প্রথম চারটি দল সেমিফাইনালে পৌঁছবে।
সেমিফাইনালের সমীকরণও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে আইসিসি। সুপার ৭-এর প্রথম স্থানে থাকা দল খেলবে চতুর্থ স্থানে থাকা দলের বিরুদ্ধে। অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা দুই দল। দুই সেমিফাইনালের জয়ীরা খেলবে বিশ্বকাপের ফাইনালে। সব মিলিয়ে ২০২৭ সালের প্রতিযোগিতায় হবে ৫৭টি ম্যাচ।
অর্থাৎ সাম্প্রতিক বিশ্বকাপের তুলনায় এবারের কাঠামো একেবারেই আলাদা। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে ১০টি দল একটি লিগ পর্বে একে অপরের বিরুদ্ধে খেলেছিল এবং পয়েন্ট তালিকার প্রথম চার দল সরাসরি সেমিফাইনালে গিয়েছিল। এবার ১৪টি দল থাকলেও তিনটি দলকে প্রথমেই সুপার সিরিজের বাধা পেরোতে হবে। এরপর মূল ১২ দলের লড়াই এবং তার পর সুপার ৭।
বিশ্বকাপের আয়োজকও এবার বিশেষ। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে এবং নামিবিয়া যৌথভাবে ২০২৭ সালের ওয়ান ডে বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। ২০০৩ সালের পর ২৪ বছর বাদে ফের আফ্রিকার মাটিতে ফিরছে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ৫০ ওভারের আসর। দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবোয়ে এর আগে ২০০৩ সালে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল, কিন্তু নামিবিয়ায় এই প্রথম সিনিয়র পুরুষদের বিশ্বকাপের ম্যাচ হবে।
ইতিমধ্যেই ১২টি ভেনুও ঘোষণা করেছে আইসিসি। দক্ষিণ আফ্রিকায় আটটি, জিম্বাবোয়েতে তিনটি এবং নামিবিয়ার রাজধানী উইন্ডহোকে একটি ভেনুতে ম্যাচ হবে। দক্ষিণ আফ্রিকার তালিকায় রয়েছে জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স, সেঞ্চুরিয়ন, কেপটাউনের নিউল্যান্ডস, ডারবানের কিংসমিড, গকেবেরহার সেন্ট জর্জ’স পার্ক, ব্লুমফন্টেনের মাঙ্গাউং ওভাল, পার্লের বোল্যান্ড পার্ক এবং বাফেলো পার্ক।
জিম্বাবোয়ের ম্যাচ হবে হারারে স্পোর্টস ক্লাব, বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব এবং ভিক্টোরিয়া ফলসের মসি-ওয়া-তুনিয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। নামিবিয়ার একমাত্র ভেনু হল উইন্ডহোকের Namibia Cricket Ground।
আইসিসির বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন কাঠামোর মূল লক্ষ্য হল প্রতিযোগিতার প্রতিটি ধাপকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলা এবং টুর্নামেন্টের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ের তীব্রতা বজায় রাখা। ১৪ দলের সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন সুপার সিরিজ এবং সুপার ৭ সেই পরিকল্পনারই অংশ।
আফ্রিকার মাটিতে ২৪ বছর পর বিশ্বকাপ ফেরায় আয়োজকদের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে অনেক আগে থেকেই। আইসিসি ইতিমধ্যেই টুর্নামেন্টের ব্র্যান্ড ও ১২টি ভেনু প্রকাশ করেছে। ২০২৭ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই বিশ্বকাপ তাই শুধু দলসংখ্যায় নয়, প্রতিযোগিতার কাঠামোতেও আগের আসরগুলির থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হতে চলেছে।



