জোড়াফুল নেই, নতুন লোগো প্রকাশ মমতার তৃণমূলের, প্রচারে সব নেতা-কর্মী

জোড়াফুল ও পুরনো দলের নাম আপাতত ব্যবহার করতে পারছে না মমতা শিবির। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া ফুটবলার প্রতীক সামনে রেখে প্রকাশ হল নতুন লোগো।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

জোড়াফুল প্রতীক নেই। পুরনো ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামও আপাতত ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে নতুন পরিচয় নিয়েই নির্বাচনী ময়দানে নামার প্রস্তুতি শুরু করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নতুন প্রতীক ‘ফুটবলার’কে সামনে রেখে প্রকাশ করা হয়েছে দলের নতুন লোগো।

নতুন লোগোর কেন্দ্রে রয়েছে ফুটবল খেলতে থাকা খেলোয়াড়ের প্রতীক। তার চারপাশে নীল রঙের পটভূমির উপর সাদা হরফে লেখা হয়েছে দলের নতুন নাম—‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’। লোগোয় নীলের পাশাপাশি গেরুয়া, সাদা ও সবুজ রঙের ব্যবহারও রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে আপাতত ‘Mamata All India Trinamool Congress’ নাম এবং ‘Football Player’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে। অন্য গোষ্ঠীকে ‘Democratic Trinamool Congress’ নাম এবং ‘Envelope’ বা ‘খাম’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে।

নতুন প্রতীক চেনাতে নেতা-কর্মীদের প্রচারের নির্দেশ

নতুন প্রতীক ভোটারদের কাছে পরিচিত করে তুলতে দলের সব স্তরের নেতা-কর্মী এবং জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় প্রচারে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর।

নিজেদের সামাজিকমাধ্যম অ্যাকাউন্ট, সভা, প্রচার এবং সাংগঠনিক কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন লোগো ও ফুটবলার প্রতীক তুলে ধরার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সোমবার থেকেই মমতা শিবিরের একাধিক সাংসদ ও বিধায়ক নতুন লোগোর ছবি সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করতে শুরু করেন।

এর মূল লক্ষ্য আগামী উপনির্বাচনের আগে ভোটারদের কাছে নতুন নাম ও প্রতীকের পরিচিতি তৈরি করা। কারণ নির্বাচন কমিশনের বর্তমান ব্যবস্থা বহাল থাকলে ৬ অক্টোবরের নির্বাচনে পুরনো জোড়াফুল প্রতীকে কোনও গোষ্ঠীই লড়তে পারবে না।

কেন বদলে গেল তৃণমূলের নাম ও প্রতীক?

তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দলীয় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের পর ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশে ‘All India Trinamool Congress’ নাম এবং দলের সংরক্ষিত ‘Flowers and Grass’ বা জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার আপাতত বন্ধ করে দেয়।

কমিশনের বক্তব্য ছিল, দুই গোষ্ঠীই নিজেদের আসল তৃণমূল হিসেবে দাবি করছে। এই বিরোধ চূড়ান্তভাবে মেটানোর আগে আসন্ন উপনির্বাচনে কোনও একটি গোষ্ঠীকে পুরনো নাম ও প্রতীক ব্যবহার করতে দিলে অন্য গোষ্ঠীর প্রার্থীদের মনোনয়ন নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই আপাতত দুই গোষ্ঠীকেই আলাদা নাম ও প্রতীক দেওয়া হয়েছে।

১৮ সেপ্টেম্বর কমিশন সেই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার অধীনেই দুই গোষ্ঠীর জন্য পৃথক পরিচয় ঘোষণা করে। মমতা শিবির পায় ‘Mamata All India Trinamool Congress’ ও ‘Football Player’; অন্য গোষ্ঠী পায় ‘Democratic Trinamool Congress’ ও ‘Envelope’।

৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে নতুন প্রতীক

নতুন নাম ও প্রতীকের প্রথম বড় পরীক্ষা হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের দুই বিধানসভা উপনির্বাচনে। ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট হওয়ার কথা।

কমিশনের নতুন ব্যবস্থায় দুই গোষ্ঠীকেই তাদের নির্ধারিত নতুন পরিচয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। কমিশন জানিয়েছে, এই ব্যবস্থা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী হিসেবে কার্যকর থাকবে।

ফলে মমতা শিবিরের কাছে এখন শুধু নতুন প্রতীক পাওয়া নয়, সেই প্রতীককে দ্রুত ভোটারদের কাছে পরিচিত করে তোলাও সাংগঠনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পুরনো জোড়াফুল কি ফিরবে?

এই মুহূর্তে জোড়াফুল প্রতীক এবং ‘All India Trinamool Congress’ নামের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার পাশাপাশি দলীয় নিয়ন্ত্রণের বিরোধও আইনি পথে গড়িয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের নাম ও প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে এবং দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়েছে।

তাই আগামী দিনে আদালতের সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের উপরই নির্ভর করবে পুরনো নাম ও জোড়াফুল প্রতীকের ভবিষ্যৎ। তার আগে ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনে মমতা শিবিরকে নতুন নাম এবং ফুটবলার প্রতীক নিয়েই ভোটারদের সামনে যেতে হচ্ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন