মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই, তিনিই তৃণমূলের একমাত্র মুখ! নির্বাচন কমিশনে হলফনামা শামিমের

তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে বিবাদের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে নির্বাচন কমিশনে হলফনামা জমা দিলেন মগরাহাট পশ্চিমের বিধায়ক শামিম আহমেদ মোল্লা। আগের হলফনামায় জোর করে সই করানোর অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তৃণমূল কংগ্রেসের (All India Trinamool Congress) দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনে চলা বিবাদে নতুন মোড়। এবার দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সমর্থনে নির্বাচন কমিশনের কাছে হলফনামা জমা দিলেন মগরাহাট পশ্চিমের বিধায়ক শামিম আহমেদ মোল্লা (Shamim Ahmed Molla)। ৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে নোটারি করা ওই হলফনামায় তাঁর স্পষ্ট দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তৃণমূল কংগ্রেসের একমাত্র মুখ এবং দলের সর্বোচ্চ নেত্রী। ১৯৯৮ সাল থেকে তিনিই দলের চেয়ারপার্সন ও প্রধান নেতৃত্বের দায়িত্বে রয়েছেন।

তৃণমূলের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে দলের অন্দরের বিবাদ যখন নির্বাচন কমিশনের বিবেচনাধীন, তখন শামিমের এই হলফনামা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, দলের সাংগঠনিক কাঠামো থেকে প্রার্থী বাছাই—সব ক্ষেত্রেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। দলের অধিকাংশ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিও তাঁর নেতৃত্বের প্রতি অনুগত।

- Advertisement -

২২ জুনের বৈঠক নিয়ে আপত্তি শামিমের

হলফনামায় ২২ জুন কলকাতার একটি হোটেলে আয়োজিত বৈঠক নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন মগরাহাট পশ্চিমের বিধায়ক। তাঁর দাবি, ওই বৈঠককে তৃণমূল কংগ্রেসের সংবিধান মেনে আয়োজিত বৈধ বিশেষ অধিবেশন হিসেবে গণ্য করা যায় না।

শামিমের বক্তব্য, ওই সভার মাধ্যমে দলের নাম ও নির্বাচনী প্রতীকের উপর যে দাবি তোলা হয়েছে, তা আইনসম্মত নয়। অর্থাৎ, তৃণমূলের নাম ও প্রতীকের বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের অবস্থানকেই সমর্থন করেছেন তিনি।

আগের হলফনামায় জোর করে সই করানোর অভিযোগ

শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নিজের আনুগত্যের কথা জানানোই নয়, আগের একটি হলফনামা নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন শামিম আহমেদ মোল্লা। তাঁর দাবি, আগের হলফনামায় তাঁকে জোর করে সই করানো হয়েছিল। পাশাপাশি পুলিশি চাপ এবং মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।

তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। কে বা কারা তাঁকে চাপ দিয়েছিলেন, সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও প্রদত্ত বিবরণে নেই। ফলে শামিমের এই বক্তব্য তাঁর অভিযোগ হিসেবেই বিবেচ্য।

- Advertisement -

তৃণমূলের নাম-প্রতীক বিতর্কে নতুন সমীকরণ?

তৃণমূলের দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে বিবাদ পৌঁছনোর পর থেকেই দলের নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক বৈধতা নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা চলছে। সেই আবহে শামিমের হলফনামা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান হিসেবে সামনে এল।

তবে কোনও বিধায়কের হলফনামা জমা পড়লেই নির্বাচন কমিশনের বিবেচনাধীন বিবাদের নিষ্পত্তি হয়ে যায় না। দলীয় সংবিধান, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত, সংশ্লিষ্ট নথি এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য খতিয়ে দেখেই কমিশনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এখন নজর নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। শামিমের হলফনামা তৃণমূলের নাম ও প্রতীক সংক্রান্ত বিবাদে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই দেখার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর