রাহুল গান্ধী ইশারা করলেই ভারতের পরিস্থিতি বাংলাদেশ ও নেপালের থেকেও খারাপ হতে পারে! ঝাড়খণ্ডের কংগ্রেসি মন্ত্রী ইরফান আনসারির এই মন্তব্য ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, দেশের ৪০ লক্ষ যুবক রাস্তায় নামার জন্য প্রস্তুত। তাঁরা আপাতত রাহুল গান্ধীর নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন। এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ শুরু করেছে বিজেপি। এমনকী, ইরফান আনসারির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবিও তুলেছে গেরুয়া শিবির।
কী বলেছেন ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রী?
সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঝাড়খণ্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা ইরফান আনসারি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর বক্তব্য, যুবক, কৃষক, শ্রমিক, মধ্যবিত্ত, দলিত, আদিবাসী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়ছে।
আনসারির দাবি, তিনি দিল্লিতে গিয়ে পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁর কথায়, প্রায় ৪০ লক্ষ যুবক রাস্তায় নামার জন্য প্রস্তুত। তাঁরা শুধু রাহুল গান্ধীর নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন। রাহুল গান্ধীই এখনও তাঁদের আটকে রেখেছেন বলে দাবি করেন ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রী।
কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুত সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সময় থাকতে সতর্ক না হলে ভারতের পরিস্থিতি বাংলাদেশ ও নেপালের থেকেও খারাপ হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি দেশে জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কার কথাও বলেন তিনি।
বিজেপির হাতে নতুন অস্ত্র, আইনি পদক্ষেপের দাবি
ইরফান আনসারির এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই কংগ্রেসকে নিশানা করেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, নির্বাচনে রাজনৈতিকভাবে সফল হতে না পেরে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে বিরোধীরা। আনসারির বক্তব্যকে সেই মনোভাবেরই প্রকাশ বলে দাবি বিজেপি নেতাদের।
বিজেপি নেতা শাহনওয়াজ হুসেন এই মন্তব্যকে অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এটি কোনও সাধারণ রাজনৈতিক মন্তব্য নয়। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ডাক দেওয়ার অধিকার কারও নেই। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখে ইরফান আনসারির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা উচিত বলেও দাবি করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, বিজেপির ঝাড়খণ্ডের মুখপাত্র প্রতুল শাহদেও কেন্দ্রের কাছে আনসারির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ৪০ লক্ষ যুবক রাহুল গান্ধীর নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন—এই বক্তব্যের মাধ্যমে কংগ্রেসের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। দলের নির্বাচনী ব্যর্থতার পর দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ বিজেপির।
বাংলাদেশ ও নেপালের উদাহরণ টেনে রাজনৈতিক সংঘাত
বাংলাদেশ ও নেপালে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ টেনে ইরফান আনসারির এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের অগস্টে ছাত্র আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছাড়েন। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে নেপালে তরুণদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বিক্ষোভের জেরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির সরকারও সরে যায়।
এই দুই দেশের রাজনৈতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতে বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা টানাকে ভালো চোখে দেখছে না বিজেপি। তাদের বক্তব্য, ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে এক করে দেখা যায় না।
বিরোধী আন্দোলন নিয়েও বাড়ছে রাজনৈতিক চাপানউতোর
বর্তমানে নির্বাচন কমিশন, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দাবিতে বিরোধী শিবিরের আন্দোলন চলছে। ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধীদের সভাতেও এই ইস্যুতে সরব হয় কংগ্রেস-সহ ইন্ডিয়া জোটের দলগুলি।
বিজেপির অভিযোগ, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত সরকারকে সরানোর উদ্দেশ্যেই বিরোধীরা আন্দোলনের নামে অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে। এই অভিযোগ অবশ্য বিরোধীরা মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও ভোটারদের অধিকার রক্ষার দাবিতেই আন্দোলন চলছে।
এর আগে আইসা নেত্রী নেহা বোরা এবং আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের বিভিন্ন মন্তব্য নিয়েও বিজেপি সরব হয়েছিল। এবার ইরফান আনসারির বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সেই রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হল। তবে ৪০ লক্ষ যুবকের রাস্তায় নামার প্রস্তুতি বা তাঁদের রাহুল গান্ধীর নির্দেশের অপেক্ষায় থাকার দাবি ইরফান আনসারির নিজস্ব বক্তব্য; এর স্বাধীন কোনও প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।



