বলিউডের শাহেনশা অমিতাভ বচ্চনের বাড়ি ‘জলসা’কে ঘিরে ফের নিরাপত্তা উদ্বেগ। মুম্বইয়ের জুহুতে অবস্থিত অভিনেতার বাংলোকে বোমা বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে ইমেলে। শুধু অমিতাভের বাড়ি নয়, মুম্বইয়ের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও স্থানের নামও উঠে এসেছে হুমকির বার্তায়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সতর্ক রয়েছে মুম্বই পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।
২৩ অক্টোবর মুম্বইয়ের মেয়র ঋতু তাওড়ের দপ্তরে একটি হুমকি ইমেল পাঠানো হয়েছিল। সেই ইমেলের অনুলিপি পাঠানো হয় ডেপুটি মেয়র সঞ্জয় ঘাড়িকেও। ওই বার্তায় মুম্বই পুরসভার সদর দপ্তর, অমিতাভ বচ্চনের জুহুর বাংলো ‘জলসা’ এবং গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্ঝের আসন্ন কনসার্টে হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি একটি স্কুলে গ্রেনেড হামলার কথাও উল্লেখ ছিল।
‘জলসা’য় হামলার হুমকি, বাড়তি নিরাপত্তা
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছিল, অমিতাভ বচ্চনের বাড়িতে ৩১ অক্টোবর থেকে ২৭ নভেম্বরের মধ্যে হামলা চালানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সেই বার্তা পাওয়ার পরই জুহুর বাংলোর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। বাড়তি পুলিশি নজরদারি এবং টহলদারির ব্যবস্থাও করা হয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়।
ওই ইমেলে শুধু অমিতাভের বাড়ি নয়, মুম্বইয়ের মেয়রের দপ্তর এবং দিলজিৎ দোসাঞ্ঝের ২৭ নভেম্বরের কনসার্টের কথাও বলা হয়েছিল। হুমকির পর মুম্বই পুরসভার সদর দপ্তরে তল্লাশি চালায় পুলিশ। বম্ব ডিটেকশন অ্যান্ড ডিসপোজাল স্কোয়াডও সেখানে তল্লাশিতে অংশ নেয়। তবে কোনও সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছিল।
৬ নভেম্বর ফের নতুন হুমকি, তালিকায় ‘জলসা’
এর মধ্যেই শুক্রবার, ৬ নভেম্বর আরও একটি বোমা হামলার হুমকি-সংক্রান্ত ইমেলের খবর সামনে এসেছে। এবার বম্বে হাই কোর্টকে লক্ষ্য করে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন। ওই ইমেলে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ, মহালক্ষ্মী রেসকোর্স এবং অমিতাভ বচ্চনের ‘জলসা’ বাংলোর নামও রয়েছে।
তবে নতুন ইমেলের বিস্তারিত বিষয়বস্তু, হুমকির বিশ্বাসযোগ্যতা এবং পুলিশ বা নিরাপত্তা সংস্থাগুলি কী পদক্ষেপ করেছে, সে বিষয়ে এখনও পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে ২৩ অক্টোবরের হুমকি এবং ৬ নভেম্বরের নতুন ইমেলকে আলাদা ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
তদন্তে পুলিশ, আতঙ্কে নিরাপত্তা মহল
পরপর হুমকি ইমেলে মুম্বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম উঠে আসায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর আগে মেয়রের দপ্তরে পাঠানো ইমেলের উৎস খুঁজে বের করা এবং প্রেরকের পরিচয় জানার জন্য তদন্ত শুরু করেছিল পুলিশ। ইমেলে খলিস্তানপন্থী সংগঠনের উল্লেখও ছিল বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। তবে সেই উল্লেখের ভিত্তিতে কোনও সংগঠনের জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।
এখন নতুন করে বম্বে হাই কোর্ট, বিএসই এবং অমিতাভের বাড়ির নাম উঠে আসায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজর আরও বেড়েছে। হুমকিগুলি আদৌ বিশ্বাসযোগ্য কি না, নাকি আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। আপাতত অমিতাভ বচ্চনের ‘জলসা’ বাংলোর নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে।



