কলকাতা পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি ভোটের ময়দানে নামার চ্যালেঞ্জ জানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এর আগে একই সুরে মমতাকে পুরভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার বারাসতের একটি কালীপুজোর মঞ্চ থেকে শমীকের বক্তব্যে স্পষ্ট, মমতাকে কলকাতা পুরভোটে লড়াইয়ের মুখোমুখি করার রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
বৃহস্পতিবার বারাসতে ‘শ্রীকৃষ্ণপুর সাংস্কৃতিক চক্র’-এর কালীপুজোর উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী ও শমীক ভট্টাচার্য। ওই অনুষ্ঠান থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, প্রতিবাদের জন্য দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কলকাতায় এসে নিজের ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জিতে দেখান মমতা।
শমীক বলেন, “দেড় হাজার কিলোমিটার দূরে গিয়ে প্রতিবাদ করছেন কেন! আপনি আসুন। আমাদের পাশে থাকুন। নিজের ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন। আপনি ভবানীপুরে মিছিল করুন।”
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, শমীকের এই বক্তব্যের সময় মঞ্চেই উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি তিনিই প্রথম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কলকাতা পুরভোটে লড়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। তাঁর পরামর্শ ছিল, নতুন প্রতীক নিয়ে নিজের ওয়ার্ডে দাঁড়িয়ে ভোটে জিতুন, তার পরে দিল্লি যাওয়ার কথা ভাবুন। এবার রাজ্য বিজেপি সভাপতির মুখেও একই বার্তা শোনা গেল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের ওয়ার্ড কলকাতা পুরসভার ৭৩ নম্বর ওয়ার্ড। ফলে বিজেপি নেতৃত্বের এই চ্যালেঞ্জের রাজনৈতিক লক্ষ্য যে ভবানীপুর ও মমতার ব্যক্তিগত নির্বাচনী লড়াই, তা নিয়ে কোনও অস্পষ্টতা নেই।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, নিজের পুরসভা ওয়ার্ডেও ভোটের নিরিখে প্রায় চার হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিলেন তিনি। এই ফলকেই সামনে রেখে বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করছে, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরেও তৃণমূলের সাংগঠনিক পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।
বিজেপির একাংশের বক্তব্য, বিধানসভা নির্বাচনের ফলের পর কলকাতা পুরভোটে মমতাকে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আহ্বান জানানো আসলে রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাসেরই প্রকাশ। দলের এক বর্ষীয়ান নেতার মতে, শুভেন্দু ও শমীকের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে মমতা যে পুরভোটে লড়তে নামবেন না, তা বিজেপি নেতৃত্বের কাছে স্পষ্ট। তবে এই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়াটাই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষে অস্বস্তিকর।
অন্যদিকে, বিজেপির এই আক্রমণকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল শিবির। দলের একাংশের পাল্টা দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিকভাবে ভয় পায় বিজেপি। সেই কারণেই তাঁকে ঘিরে বারবার এই ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে।
বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিজেপির অভিযোগ ও চ্যালেঞ্জের জবাব দিতে গিয়ে বলেন, বিজেপি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভয় পায়। তাঁর দাবি, ভবানীপুরে ভোট লুট করেই মমতাকে হারানো হয়েছে। সেই কারণেই বিজেপি নেতারা তাঁকে নিয়ে নানা মন্তব্য করছেন। একই সঙ্গে গণনা প্রক্রিয়ার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবিও তুলেছেন তিনি।
সব মিলিয়ে কলকাতা পুরভোটের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তৃণমূলের রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হচ্ছে। একদিকে বিজেপি নেতৃত্ব চাইছে, মমতা নিজের ওয়ার্ডে দাঁড়িয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামুন। অন্যদিকে তৃণমূলের পাল্টা বক্তব্য, এই চ্যালেঞ্জের আড়ালে রয়েছে বিজেপির রাজনৈতিক উদ্বেগ। পুরভোটের প্রচার শুরু হওয়ার আগেই দুই শিবিরের এই বাকযুদ্ধ যে নির্বাচনী রাজনীতির অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠছে, তা স্পষ্ট।



