ঋতব্রতদের বিধায়ক পদ খারিজ মামলায় শোভনদেবকে সুপ্রিম ধাক্কা! হস্তক্ষেপ নয় শীর্ষ আদালতের, এবার কোন পথে তৃণমূল?

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ১০ বিধায়কের সদস্যপদ খারিজের দাবিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মামলায় সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান। এবার কলকাতা হাইকোর্টে দ্রুত শুনানির আবেদন জানাতে পারেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়কদের সদস্যপদ খারিজের মামলায় সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি পেলেন না শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিধানসভার অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের এই প্রবীণ বিধায়ক। কিন্তু বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, এই পর্যায়ে মামলায় হস্তক্ষেপ করবে না সুপ্রিম কোর্ট। আবেদনকারী চাইলে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হতে পারেন। দ্রুত শুনানির বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি।

এই নির্দেশের ফলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের বিধায়ক পদ খারিজের দাবিতে শোভনদেবের আইনি লড়াই আপাতত নতুন মোড় নিল। এবার কলকাতা হাইকোর্টে যাওয়ার পথই খোলা থাকছে তাঁর সামনে।

- Advertisement -

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙন তৈরি হয়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একদল বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির থেকে বেরিয়ে পৃথক রাজনৈতিক অবস্থান নেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে নিয়ে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস নামে পৃথক গোষ্ঠী তৈরি হয়।

এরপর দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় ঋতব্রত-সহ মোট ১০ জন বিধায়কের সদস্যপদ খারিজের দাবি জানান শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুর কাছে এই আবেদন জানানো হয়েছিল।

কিন্তু দীর্ঘদিনেও সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় আইনি পদক্ষেপ করেন শোভনদেব। তাঁর বক্তব্য ছিল, দলত্যাগ বিরোধী আইনের বিধান অনুযায়ী অভিযুক্ত বিধায়কদের সদস্যপদ নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

এর আগে ২৮ সেপ্টেম্বরও এই সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন শোভনদেব। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ জানিয়েছিল, বিধায়কদের অযোগ্যতা সংক্রান্ত আবেদনের সিদ্ধান্ত যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে নেওয়া উচিত।

- Advertisement -

এদিকে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পদে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করেও কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছেন শোভনদেব। সেই মামলার শুনানিও চলছে। অক্টোবর মাসে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, পুজোর ছুটির পর ১২, ১৩ ও ১৭ নভেম্বর মামলাটি ফের শুনানির জন্য ধার্য করা হয়েছে।

ফলে ঋতব্রত শিবিরের বিধায়কদের সদস্যপদ খারিজ এবং বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে আইনি লড়াই এখনও শেষ হয়নি। সুপ্রিম কোর্টে প্রত্যাশিত স্বস্তি না মেলায় এবার কলকাতা হাইকোর্টের পরবর্তী শুনানির দিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর