কলকাতার দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে মাস আর্ট (MAS Art) সংস্থার বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক দুর্নীতির মামলায় দ্বিতীয় গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। বুধবার সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার টেরিটি বাজার এলাকা থেকে সংস্থার সচিব ধ্রুবজ্যোতি বসু ওরফে শুভকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই মামলায় এর আগে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের নজরে থাকা ধ্রুবজ্যোতির নামও মামলার এফআইআরে রয়েছে।
পুলিশের তদন্তে ধ্রুবজ্যোতির ভূমিকা বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছিল। তদন্তকারীদের সূত্রের দাবি, মাস আর্ট সংস্থা গঠনের নেপথ্যে ইন্দ্রনীল সেন ও ধ্রুবজ্যোতি বসুর ভূমিকা ছিল। দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি এবং প্রিভিউ শো আয়োজনের নামে কীভাবে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেই প্রক্রিয়ায় ধৃতের ভূমিকা কী ছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশের দাবি, সংস্থাটির পরিচালনা এবং আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ধ্রুবজ্যোতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত বলে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাস বিক্রির পরিকল্পনা, অর্থ সংগ্রহ এবং সেই টাকা কোথায় পাঠানো হয়েছিল, তার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)।
২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর (UNESCO) সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার পর মাস আর্ট সংস্থার কার্যকলাপ শুরু হয়েছিল। অভিযোগ, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং বিশেষ প্রবেশের পাস বিক্রির ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়। এই অর্থ সংগ্রহের বৈধতা এবং সংশ্লিষ্ট চুক্তির বিষয়টি তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই মামলায় ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেনের নামও এফআইআরে রয়েছে। তিনি মাস আর্টের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। কলকাতা হাই কোর্ট থেকে রক্ষাকবচ পাওয়ার পর তাঁকে দু’দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরিবারের অন্য সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
অন্যদিকে, ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। আদালতে তাঁর বক্তব্য ছিল, মাস আর্ট সংস্থার কোনও পদে তিনি ছিলেন না। গত ২৯ অক্টোবর ব্যাঙ্কশাল আদালত তাঁকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়।
পুলিশের তদন্তে প্রায় ২০টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের সূত্রও সামনে এসেছে বলে সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর। ইউনেস্কোর সঙ্গে কথিত চুক্তি, পাস বিক্রির আয়, দরপত্র প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করছে।



