এক মাসে কেজিতে ৪ টাকা বাড়ল চিনির দাম, কলকাতায় সবচেয়ে বেশি ৬৫ টাকা! দিল্লিকেও ছাপিয়ে গেল দর

উৎসবের মরসুমে চিনির দাম বৃদ্ধিতে চাপে সাধারণ ক্রেতারা। ৩ নভেম্বর কলকাতায় কেজিপ্রতি দাম ৬৫ টাকা, যা দিল্লি ও মুম্বইয়ের থেকেও বেশি। দেশজুড়ে দাম বৃদ্ধির কারণ ও কেন্দ্রের পদক্ষেপ জেনে নিন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

উৎসবের মরসুমে বাজারে চিনির দাম বাড়তে বাড়তে দেশের বড় শহরগুলির মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে কলকাতা। কেন্দ্রীয় উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রকের (Ministry of Consumer Affairs) তথ্য অনুযায়ী, ৩ নভেম্বর কলকাতায় খুচরো বাজারে চিনির গড় দাম ছিল কেজিপ্রতি ৬৫ টাকা। দিল্লিতে সেই দাম ৬৪ টাকা এবং মুম্বইয়ে ৬১ টাকা। শুধু এক মাসে নয়, গত এক বছরের হিসাবেও চিনির দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্য কিনতে বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

সারা দেশের বাজারেও একই ছবি। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে চিনির গড় খুচরো দাম কেজিপ্রতি ৫৯.৫০ টাকা এবং পাইকারি দাম ৫৫.৪০ টাকা। গত এক মাসে দুই ক্ষেত্রেই কেজিতে ৪ টাকার বেশি বেড়েছে দাম। এক বছর আগে খুচরো বাজারে চিনির গড় দাম ছিল ৪৬.৫০ টাকা। অর্থাৎ বছরে কেজিপ্রতি প্রায় ১৩ টাকা বেড়েছে।

- Advertisement -

কলকাতার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। গত বছরের একই সময়ে শহরে চিনির খুচরো দাম ছিল কেজিপ্রতি ৫০ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে ৬৫ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ এক বছরে কেজিতে ১৫ টাকা বৃদ্ধি। দিল্লিতে গত বছর ৪৬ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৪ টাকা। মুম্বইয়ে ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ টাকা।

চিনির দাম বৃদ্ধির পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। ২০২৫-২৬ মরসুমে দেশে চিনির উৎপাদন প্রাথমিক অনুমানের তুলনায় কম হয়েছে। পাশাপাশি আখের ফলনে আবহাওয়াজনিত ক্ষতি, উৎসবের আগে চাহিদা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের টানাপড়েন এবং কিছু ব্যবসায়ীর মজুতদারির অভিযোগও দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্র ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ করেছে। চিনি ব্যবসায়ীদের মজুতের উপর সীমা আরোপ, আমদানির অনুমতি এবং বাজারের উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ১৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন মজুতবিধিতে কলকাতা ও সংলগ্ন মহানগর এলাকা এবং অসমকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, নতুন মরসুমে চিনির উৎপাদন শুরু হয়েছে। ন্যাশনাল ফেডারেশন অফ কো-অপারেটিভ সুগার ফ্যাক্টরিজ লিমিটেডের (NFCSF) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ মরসুমের প্রথম মাসে দেশে ৮.৪৫ লক্ষ টন চিনি উৎপাদিত হয়েছে। ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ১৫২টি চিনিকলে আখ মাড়াই শুরু হয়েছিল। নতুন উৎপাদন বাজারে সরবরাহ বাড়াতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

- Advertisement -

তবে উৎপাদন শুরু হলেও খুচরো বাজারে তার প্রভাব কতটা পড়বে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আপাতত কলকাতার ক্রেতাদের দেশের অন্যান্য বড় শহরের তুলনায় বেশি দামেই চিনি কিনতে হচ্ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর