ট্রাম্পের মিড টার্ম ধাক্কায় চাঙ্গা দালাল স্ট্রিট! এক সকালে ১৪০০ পয়েন্ট বাড়ল সেনসেক্স, ৯৪ ডলারে নামল তেলের দাম

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন প্রত্যাশা। বৃহস্পতিবার সকালে প্রায় ১৪০০ পয়েন্ট বাড়ল সেনসেক্স, ৯৪ ডলারের ঘরে নামল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে (US Midterm Elections) ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির বড় ধাক্কা। আর তার পরেই আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর সকালে দুরন্ত গতিতে শুরু হল ভারতের শেয়ার বাজারের লেনদেন। বাজার খোলার পরেই এক ধাক্কায় প্রায় ১৪০০ পয়েন্ট বেড়ে গেল সেনসেক্স (Sensex)। একই সঙ্গে নিফটির সূচকেও উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেল। শুধু শেয়ার বাজার নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নীচে নেমে প্রায় ৯৪ ডলারে পৌঁছেছে। মার্কিন নির্বাচনের ফল, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রত্যাশা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনা—সব মিলিয়ে ভারতীয় বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ২৪ মিনিটের বাজারের হিসাব অনুযায়ী, সেনসেক্স ১,৩৪৯.৭৪ পয়েন্ট বেড়ে ৭৮,৬৫১.১৪-তে লেনদেন করছিল। অন্যদিকে, নিফটি ৫০ বেড়েছিল ৩৭৫.৭০ পয়েন্ট। দিনের শুরুতেই বাজারে এই উত্থান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।

- Advertisement -

এর আগের দিন অর্থাৎ বুধবারও ইতিবাচক অবস্থানে বাজার বন্ধ হয়েছিল। সেনসেক্স ৩৮৩.৫৫ পয়েন্ট বেড়ে ৭৭,৩০১.৪০-এ থামে। বৃহস্পতিবার সেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরও জোরদার হয়। বাজারের প্রথম দিকের লেনদেনে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কেনাকাটার প্রবণতা দেখা যায়।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উত্থানের পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য এবং কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি, বাণিজ্য সংঘাত এবং পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের হিসাব বদলাচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) ফের ভারতীয় শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন। বুধবার ভারতীয় শেয়ার বাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৭,২৮৪ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন। এর প্রভাবও বৃহস্পতিবারের বাজারে পড়েছে।

বৃহস্পতিবারের লেনদেনে ইন্ডিগো, এশিয়ান পেন্টস, বজাজ ফিনান্স, মারুতি সুজুকি এবং মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রার শেয়ারে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা যায়। বিশেষ করে ইন্ডিগোর শেয়ার ছিল লাভের তালিকায় উপরের দিকে।

- Advertisement -

শেয়ার বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের বাজারেও বড় পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তার জেরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ ডলারের উপরে উঠে গিয়েছিল। কিন্তু মার্কিন নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বাজারে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৩.৫ থেকে ৯৪ ডলারের আশপাশে নেমে আসে। আগের দিনও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় পতন হয়েছিল।

বাজারের একাংশের ধারণা, মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ বাড়লে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে চাপ তৈরি হতে পারে। সংঘাত প্রশমিত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগও কমতে পারে। যদিও যুদ্ধ বন্ধের কোনও নিশ্চয়তা এখনও নেই।

ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশের কাছে অপরিশোধিত তেলের দাম কমা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এতে আমদানি খরচ, মুদ্রাস্ফীতির চাপ এবং পরিবহণ ব্যয়ের উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

শেয়ার বাজারের উত্থানের পাশাপাশি ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার মূল্যেও উন্নতি দেখা গিয়েছে। বুধবার ডলারের নিরিখে টাকার দর ছিল প্রায় ৯৪.৬৫। বৃহস্পতিবার সকালে তা বেড়ে ৯৪.৩৬-এর আশপাশে পৌঁছয়। অর্থাৎ এক ধাক্কায় প্রায় ২৯ পয়সা শক্তিশালী হয়েছে ভারতীয় মুদ্রা।

অপরিশোধিত তেলের দাম কমার সম্ভাবনা এবং বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ টাকার দরকে কিছুটা সমর্থন জুগিয়েছে বলে বাজার বিশেষজ্ঞদের মত।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামেও উত্থান দেখা গিয়েছে। ফলে শেয়ার, মুদ্রা এবং পণ্যের বাজারে একই সময়ে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্ষমতার উপর বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে পরিবর্তন হয়নি। বরং কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো রিপাবলিকানদের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যনীতি, শুল্ক আরোপ এবং ইরান সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন রাজনৈতিক বাধা তৈরি হতে পারে। তার প্রভাব আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, জ্বালানির বাজার এবং বিভিন্ন দেশের মুদ্রার উপর পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে সব দেশের শেয়ার বাজারে একই ছবি দেখা যায়নি। আমেরিকা ও ইউরোপের বাজারে উত্থান হলেও এশিয়ার কয়েকটি বাজারে প্রযুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর সংক্রান্ত উদ্বেগে পতন হয়েছে। ফলে বিশ্বজুড়ে একযোগে বাজার চাঙ্গা হয়েছে, এমনটা বলা যাচ্ছে না।

ভারতের ক্ষেত্রে আপাতত কমতে থাকা অপরিশোধিত তেলের দাম, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ফিরে আসা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে ইতিবাচক প্রত্যাশা বাজারকে বাড়তি অক্সিজেন জুগিয়েছে। তবে এই ঊর্ধ্বগতি কতদিন বজায় থাকবে, তা নির্ভর করবে আগামী দিনের আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং বিনিয়োগকারীদের অবস্থানের উপর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর