উৎসবের মরশুমে রাজ্যের আর্থিক ভাঁড়ারে বড়সড় সংযোজন। কেন্দ্রীয় করের ভাগ বাবদ পশ্চিমবঙ্গকে ৭,৮৬৬ কোটি টাকা দিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর একসঙ্গে দেশের ২৮টি রাজ্যের জন্য মোট ১ লক্ষ ৯ হাজার ১৯ কোটি টাকা ছেড়েছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। সাধারণত প্রতি মাসের ১০ তারিখে রাজ্যগুলিকে এই অর্থ দেওয়া হলেও উৎসবের মরশুমে আর্থিক সুবিধা পৌঁছে দিতে এবার পাঁচ দিন আগেই কিস্তি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে উন্নয়নমূলক কাজ, পরিকাঠামো নির্মাণ এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে খরচের জন্য রাজ্যগুলির হাতে আগেভাগেই অর্থ পৌঁছল।
কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নভেম্বর মাসের নিয়মিত কর বণ্টনের কিস্তি ১০ নভেম্বরের পরিবর্তে ৫ নভেম্বরই রাজ্যগুলিকে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের বক্তব্য, উৎসবের মরশুমে রাজ্যগুলির মূলধনী ব্যয় বাড়ানো এবং উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের খরচ মেটাতে এই আগাম অর্থ ছাড়ার সিদ্ধান্ত।
এই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৭,৮৬৬ কোটি টাকা। একসঙ্গে এত টাকা হাতে আসায় রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের খরচ মেটানো এবং সরকারি ব্যয়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সুবিধা হতে পারে। তবে এই অর্থ কীভাবে এবং কোন কোন খাতে খরচ করা হবে, তা রাজ্য সরকারের নিজস্ব আর্থিক পরিকল্পনার উপর নির্ভর করবে।
কোন রাজ্য কত টাকা পেল?
কেন্দ্রের প্রকাশিত তালিকায় সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছে উত্তরপ্রদেশ। যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১৯,২০৮ কোটি টাকা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিহার। নীতীশ কুমারের রাজ্যের বরাদ্দ ১০,৮৪৫ কোটি টাকা। তৃতীয় স্থানে মধ্যপ্রদেশ, তারা পাচ্ছে ৮,০১০ কোটি টাকা।
চতুর্থ স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। মহারাষ্ট্রের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৭,০২২ কোটি টাকা। রাজস্থানের ভাগে এসেছে ৬,৪৬০ কোটি টাকা। ওড়িশা পেয়েছে ৪,৮১৯ কোটি টাকা এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বরাদ্দ ৪,৫৯৭ কোটি টাকা।
এ ছাড়া কর্নাটক পেয়েছে ৪,৫০৪ কোটি টাকা, তামিলনাড়ু ৪,৪৬৬ কোটি এবং গুজরাট ৪,০৯৪ কোটি টাকা। ঝাড়খণ্ডের জন্য বরাদ্দ ৩,৬৬০ কোটি টাকা। অসম পেয়েছে ৩,৫৫২ কোটি টাকা।
কেন আগাম টাকা দিল কেন্দ্র?
সাধারণত প্রতি মাসের ১০ তারিখে কেন্দ্রীয় করের রাজ্যভিত্তিক অংশ ছাড়া হয়। কিন্তু উৎসবের সময় রাজ্যগুলির আর্থিক চাহিদা বাড়ে। সরকারি প্রকল্পের কাজ, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হয়। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই এবার নির্ধারিত সময়ের পাঁচ দিন আগে টাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।
কেন্দ্রের আশা, আগাম অর্থ হাতে পাওয়ায় রাজ্যগুলি মূলধনী খাতে ব্যয়ের গতি বাড়াতে পারবে। পাশাপাশি চলতি প্রকল্পগুলির কাজও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সহজ হবে। রাজ্যগুলির হাতে অর্থের জোগান বাড়লে পরিকাঠামো নির্মাণ ও সরকারি ব্যয়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি আসতে পারে।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, ৩১ অক্টোবরও উৎসবের মরশুমের কথা মাথায় রেখে রাজ্যগুলিকে অতিরিক্ত ১ লক্ষ ৯ হাজার ১৯ কোটি টাকার একটি কিস্তি দিয়েছিল কেন্দ্র। ৫ নভেম্বরের অর্থটি তার থেকে আলাদা, এটি নভেম্বরের নিয়মিত মাসিক কর বণ্টনের কিস্তি। অর্থাৎ, এক সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে একই পরিমাণের দুটি পৃথক কিস্তি রাজ্যগুলির জন্য ছাড়া হয়েছে।
কী এই কর বণ্টনের টাকা?
কেন্দ্রীয় কর বণ্টন বা Tax Devolution হল কেন্দ্রের সংগৃহীত করের নির্দিষ্ট অংশ রাজ্যগুলির মধ্যে ভাগ করে দেওয়া। অর্থ কমিশনের সুপারিশ এবং নির্ধারিত বণ্টন পদ্ধতি অনুসারে রাজ্যগুলি এই অর্থ পেয়ে থাকে। এটি কোনও বিশেষ প্রকল্পের জন্য দেওয়া অনুদান নয়। রাজ্য সরকারগুলি নিজেদের প্রয়োজন ও অগ্রাধিকার অনুযায়ী এই অর্থ বিভিন্ন খাতে ব্যয় করতে পারে।
ফলে পশ্চিমবঙ্গের ৭,৮৬৬ কোটি টাকার প্রাপ্তি রাজ্যের আর্থিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। উৎসবের মরশুমে আগাম এই অর্থ হাতে আসায় সরকারি খরচ ও উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে কিছুটা আর্থিক স্বস্তি মিলতে পারে।



