সন্দেশখালিতে ফের নারী নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা। উত্তর ২৪ পরগনার ন্যাজাট থানা এলাকার বাউনিয়া গ্রামে এক আদিবাসী মহিলাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে শেখ শাহজাহানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে। সন্তানদের নিয়ে টিউশন থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওই মহিলার পথ আটকে তাঁকে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পর ন্যাজাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মহিলা। তার ভিত্তিতে শুক্রবার কাদের মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিতে পথে নেমেছেন স্থানীয় মহিলারা। তাঁদের অভিযোগ, এর আগেও কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মহিলাদের সঙ্গে অভব্য আচরণ এবং নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল। তবে সেই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
টিউশন থেকে ফেরার পথে পথ আটকানোর অভিযোগ
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সন্তানদের নিয়ে টিউশন থেকে বাড়ি ফিরছিলেন ওই আদিবাসী মহিলা। অভিযোগ, সেই সময় তাঁর পথ আটকান কাদের মোল্লা। নির্জন রাস্তার সুযোগ নিয়ে তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন মহিলা। তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তার আগেই অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে জানা গিয়েছে।
এরপরই ন্যাজাট থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই মহিলা। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে পুলিশ। শুক্রবার অভিযুক্ত কাদের মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে। ঘটনার পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
কাদের মোল্লাকে ঘিরে পুরনো অভিযোগ
কাদের মোল্লাকে শেখ শাহজাহানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। এক নির্যাতিতার আত্মীয়ার দাবি, এর আগেও গ্রামের একাধিক মহিলা ও কমবয়সি মেয়ের সঙ্গে কাদের অভব্য আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগও আগে উঠেছিল বলে দাবি ওই আত্মীয়ার।
তাঁর বক্তব্য, শেখ শাহজাহানের প্রভাবের সময় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানাতে ভয় পেতেন অনেকে। শাহজাহান গ্রেফতার হওয়ার পর কিছুদিন কাদের চুপচাপ ছিলেন। সম্প্রতি ফের তাঁর বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে অতীতের এই অভিযোগগুলি নিয়ে পুলিশের তরফে কী পদক্ষেপ করা হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
শাহজাহান-পর্বের স্মৃতি ফের সামনে
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সন্দেশখালির ন্যাজাট থানা এলাকায় শেখ শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আধিকারিকেরা। রেশন দুর্নীতি-সহ একাধিক মামলায় পরে গ্রেফতার হন শাহজাহান। তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে।
সেই সময় সন্দেশখালির একাধিক মহিলা শেখ শাহজাহান ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে জমি দখল, হুমকি এবং নারী নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন। বিষয়টি রাজ্য রাজনীতিতেও বড় বিতর্ক তৈরি করেছিল। কাদের মোল্লার গ্রেফতারির পর স্থানীয় মহিলাদের একাংশের বক্তব্য, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এবার যেন যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এক স্থানীয় মহিলার দাবি, কাদেরের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ হলে এলাকায় মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে একটি স্পষ্ট বার্তা যাবে। তাঁদের বক্তব্য, কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যাতে আইন এড়াতে না পারেন, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আদালতে পেশ ধৃত, তদন্তে পুলিশ
শুক্রবারই কাদের মোল্লাকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে পেশ করে ন্যাজাট থানার পুলিশ। ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
তবে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার হলেও আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে দোষী বলা যায় না। আপাতত পুলিশের তদন্ত এবং আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে সন্দেশখালির বাসিন্দাদের।



