স্ত্রীকে খুনের পর তাঁর মাথা কেটে নিয়ে মন্দিরে বসে থাকার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। কখনও আবার স্ত্রীর কাটা মাথা হাতে নিয়ে এলাকার রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগও উঠেছে। বুধবার সকালে দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নারায়ণপুর ঘোষপাড়ায় এই ভয়াবহ ঘটনা সামনে আসে। মৃত মহিলার নাম সীমা ঘোষ সরকার (৩৫)। ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছয় গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ। অভিযুক্ত স্বামী রিন্টু ঘোষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে মহিলার দেহ, কাটা মাথা এবং একটি ধারালো দা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৫ বছর আগে রিন্টু ঘোষের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল সীমার। তাঁদের দুই পুত্রসন্তান রয়েছে। সংসার চালাতে সীমা রাস্তার ধারে ফুটপাথে বসে কখনও ফুল, কখনও মুড়ি ও গুড় বিক্রি করতেন। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থায় (NBSTC) অস্থায়ী কন্ডাক্টর হিসেবেও কাজ করতেন রিন্টু।
তবে প্রায় তিন বছর আগে সেই চাকরি চলে যায়। স্থানীয়দের দাবি, চাকরি হারানোর পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন রিন্টু। দম্পতির মধ্যে প্রায়ই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অশান্তি হত বলেও জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। যদিও এই দাম্পত্য কলহই খুনের কারণ কি না, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
বুধবার সকালে নারায়ণপুর ঘোষপাড়ার বাসিন্দারা প্রথমে রিন্টুকে একটি মন্দিরের ভিতরে বসে থাকতে দেখেন। তাঁর সামনে ছিল স্ত্রীর কাটা মাথা। অভিযোগ, কিছুক্ষণ পর সেই মাথা হাতে নিয়ে এলাকাতেও ঘুরে বেড়ান তিনি। এমন দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয়রা। দ্রুত গঙ্গারামপুর থানায় খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। এরপর অভিযুক্তকে আটক করে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে সীমার দেহ ও কাটা মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। পাশাপাশি খুনে ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা একটি ধারালো দাও উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
এই ঘটনায় তন্ত্রসাধনার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরেই তন্ত্রসাধনায় মগ্ন ছিলেন রিন্টু। বাড়ির ভিতরে থাকা কালীমন্দির এবং পাশের দুর্গামন্দিরে দিনের দীর্ঘ সময় কাটাতেন তিনি। তবে তন্ত্রসাধনার সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তার প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। স্থানীয়দের এই দাবির সত্যতা যাচাই করছে পুলিশ।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, দাম্পত্য অশান্তির জেরেই এই খুনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ জানতে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনও বিবাদ হয়েছিল কি না, খুনের পরিকল্পনা আগে থেকে করা হয়েছিল কি না, সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পরিবারের দুই নাবালক সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কী কারণে এমন নৃশংস ঘটনা ঘটল, তা জানতে পুলিশ পারিবারিক পরিস্থিতি, প্রতিবেশীদের বক্তব্য এবং অভিযুক্তের বয়ান খতিয়ে দেখছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তের পরই মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে।



