গুয়াহাটির হোটেলে ঢুকে পাঁচজনকে গুলি করে খুনের ঘটনায় অভিযুক্তের মৃত্যু হল পুলিশি এনকাউন্টারে। মঙ্গলবার গভীর রাতে অসমের শিবসাগরে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে ঘনকান্ত গগৈয়ের। পুলিশ সূত্রে খবর, অন্য একটি মামলার তদন্তের প্রয়োজনে তাঁকে গুয়াহাটি থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দূরে শিবসাগরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথে গৌরীসাগর এলাকায় পুলিশের হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। এমনকি এক পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলবার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ। সেই সময় পুলিশ গুলি চালালে গুরুতর জখম হন ঘনকান্ত। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ৩টে ১২ মিনিট নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তকে নিয়ে যাওয়ার সময় গৌরীসাগরের কাছে তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার কথা জানান। এরপর পুলিশ তাঁকে গাড়ি থেকে নামতে দেয়। পুলিশের দাবি, গাড়ি থেকে নামার পরই এক পুলিশকর্মীর কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন ঘনকান্ত। তাঁকে আটকাতে গিয়ে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অন্য এক পুলিশকর্মী গুলি চালান।
শিবসাগরের পুলিশ আধিকারিক পাপোরি চেটিয়া জানিয়েছেন, অভিযুক্তের হামলায় এক পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্তাকে রক্ষা করতেই ওই পুলিশকর্মী গুলি চালিয়েছিলেন। ঘটনার পর জখম ঘনকান্তকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।
কী ঘটেছিল গুয়াহাটির বিলাস ইন হোটেলে?
গত সপ্তাহে গুয়াহাটির বরা সার্ভিস এলাকার বিলাস ইন হোটেলে ভয়াবহ গুলিচালনার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, হোটেলের ভিতরে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালান ঘনকান্ত গগৈ। ওই ঘটনায় প্রাণ হারান পাঁচজন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন হোটেলের মালিক হেলেনা ভরালি, তাঁর ছেলে দেবর্ষি কাশ্যপ, দেবর্ষির স্ত্রী রিনিকি কাশ্যপ, পরিবারের আত্মীয় নারায়ণ দাস এবং হেলেনার ভাই ভূদেব ভরালি। গুলিতে আহত হন পরিবারের আরও এক আত্মীয় সত্যেন্দ্র পাঠক।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, হোটেলের মালিক এবং লিজ় নিয়ে হোটেল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির মধ্যে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদ থেকেই এই হামলার সূত্রপাত। হোটেলটির লিজ় ঘনকান্তের নামে ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সেই বিবাদের জেরেই তিনি গুলি চালিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছিল পুলিশ।
ঘটনাস্থল থেকে একটি .৩২ বোরের লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছিল। পাঁচজনকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় ঘনকান্তকে। এরপর অন্য একটি মামলার তদন্তের সূত্র ধরে তাঁকে শিবসাগরে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় অভিযুক্তের মৃত্যুর পাশাপাশি এক পুলিশকর্মী আহত হওয়ায় গোটা ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
একই দিনে বাংলায় দুই পুলিশি এনকাউন্টার
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই পশ্চিমবঙ্গের দুই জেলায় পরপর দুটি পুলিশি এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটেছিল। উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা এবং মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় দুই অভিযুক্তের।
গাইঘাটায় ১৭ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন প্রহ্লাদ দাস। পুলিশি দাবি অনুযায়ী, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য তাঁকে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। এমনকি পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগও ওঠে। পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। তাতেই মৃত্যু হয় প্রহ্লাদের।
অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে সামশেরগঞ্জের ব্যবসায়ী তথা বিজেপি কর্মী সুজিত মণ্ডল খুনের মামলায় ধৃত ছিলেন সামাউল শেখ। পুলিশি এনকাউন্টারে তাঁরও মৃত্যু হয়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রাজ্যের দুই প্রান্তে পরপর এই দুই ঘটনার পর এবার অসমের গুয়াহাটি হোটেলকাণ্ডের অভিযুক্তেরও পুলিশি গুলিতে মৃত্যু হল।



