উত্তরবঙ্গের বন্ধ, পরিত্যক্ত ও অচল চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠক থেকে তিনি জানান, ৬০ বছরের কম বয়সি ১৯ হাজার ৫২৪ জন চা শ্রমিককে এককালীন ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি, চা শ্রমিক পরিবারপিছু ৫০ কেজি চাল দেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
তবে এই সুবিধা কারা পাবেন, কোন কোন চা বাগানের শ্রমিকেরা প্রকল্পের আওতায় আসবেন এবং চাল কবে থেকে মিলবে—তা নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণায় উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিক পরিবারগুলির জন্য আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি খাদ্যসুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
কারা পাবেন ৫ হাজার টাকা?
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বন্ধ থাকা উত্তরবঙ্গের ২১টি চা বাগানের নথিভুক্ত শ্রমিকদের এই আর্থিক সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। তবে প্রত্যেকের ক্ষেত্রে বয়সের শর্ত রয়েছে। ৬০ বছরের কম বয়সি যোগ্য শ্রমিকেরা এককালীন ৫ হাজার টাকা পাবেন। মোট উপভোক্তার সংখ্যা ১৯ হাজার ৫২৪। টাকা শ্রম দফতরের মাধ্যমে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর কথা জানানো হয়েছে।
চা শ্রমিক পরিবারগুলির রেশন নিয়েও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমানে পরিবারগুলি মাসে ৩৫ কেজি চাল পায়। সেটি বাড়িয়ে ৫০ কেজি করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। তবে এই অতিরিক্ত চাল নিয়মিত রেশনে কবে থেকে দেওয়া হবে, তা চূড়ান্ত হয়েছে কি না—সে বিষয়ে সরকারি নির্দেশিকা দেখে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
চা বাগান খোলার নির্দেশ
শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বন্ধ চা বাগানগুলি ফের চালু করার বিষয়েও প্রশাসনকে তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সামসিং চা বাগান ইতিমধ্যেই খুলেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কালিম্পংয়ের বন্ধ বা অচল চা বাগানগুলির পরিস্থিতির দিকেও নজর দেওয়ার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংকে দ্রুত বন্ধ চা বাগান খোলার উদ্যোগ নিতে বলেছেন তিনি। শ্রমিকদের জব কার্ড প্রস্তুত রাখার পরামর্শও দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক যোজনার আওতায় শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বৃদ্ধ ভাতা নিয়েও ঘোষণা
বৃদ্ধ ভাতা, বিধবা ভাতা এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবশ্য এর আগেই কার্যকর হয়েছে। রাজ্য সরকারের ঘোষণায় মাসিক ভাতার পরিমাণ ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে। সেপ্টেম্বর থেকে বর্ধিত হারে টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। ফলে উত্তরকন্যার বৈঠকে এই ভাতার প্রসঙ্গ উঠলেও, সেটিকে নতুন ঘোষণা হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না।
আবাস যোজনা ও আগামী কর্মসূচি
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার সুবিধা যাতে প্রকৃত যোগ্য উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করতে কালিম্পং জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৯ ও ১০ নভেম্বর উত্তরবঙ্গে থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এ ছাড়াও ১৮ নভেম্বর আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামে বীরসা মুন্ডার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু। ২৪ নভেম্বর কোচবিহারের রাস উৎসবের উদ্বোধনেও উপস্থিত থাকার কথা তাঁর। রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। বৈষ্ণবদের শ্রীখোল এবং রাজবংশী সম্প্রদায়ের দোতারা নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা বলা হয়েছে।
চা শ্রমিকদের জন্য ৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা এবং রেশনে চাল বাড়ানোর পরিকল্পনা—দুই ঘোষণাই উত্তরবঙ্গের বন্ধ চা বাগানের পরিবারগুলির কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে চালের বর্ধিত পরিমাণ কবে থেকে কার্যকর হবে, তা জানতে সরকারি নির্দেশিকার দিকেই নজর রাখতে হবে।



