জনগণনার কাজে রাজ্যের বহু শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মীকে নিয়োগ করার সম্ভাবনায় বদলাতে পারে ২০২৭ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সূচি। মাধ্যমিক পরীক্ষা পিছিয়ে মার্চে হলে উচ্চমাধ্যমিকের চতুর্থ সেমেস্টারও নির্ধারিত সময়ের পরে আয়োজনের প্রয়োজন হতে পারে। স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনের বক্তব্য অনুযায়ী, জনগণনার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বড় পরীক্ষা না রাখার জন্য মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে অনুরোধ জানিয়েছে রাজ্য সরকার।
কলকাতা-সহ রাজ্যের পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে তাই এখন বড় প্রশ্ন—কবে শুরু হবে উচ্চমাধ্যমিকের চতুর্থ সেমেস্টার? এখনও পর্যন্ত নতুন পরীক্ষাসূচি চূড়ান্ত হয়নি। তবে মাধ্যমিকের সূচি বদলের সঙ্গে উচ্চমাধ্যমিকের দিনক্ষণও পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত মিলেছে।
জনগণনা ২০২৭-এর বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ আগামী ২৫ জানুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলার কথা। প্রয়োজনীয় সংশোধনের কাজের জন্য মার্চের প্রথম কয়েক দিনও নির্ধারিত রয়েছে। এই সময় রাজ্যের বহু শিক্ষককে গণনার কাজে যুক্ত করা হতে পারে। ফলে একই সময়ে স্কুলের পঠনপাঠন, পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং বোর্ডের পরীক্ষা পরিচালনা—সব কিছু সামলানো কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার সূচি বদলের প্রস্তাব ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের কাছে পাঠিয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (West Bengal Board of Secondary Education)। আগে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। নতুন প্রস্তাবে ২ মার্চ থেকে ১৬ মার্চের মধ্যে পরীক্ষা আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। তবে স্কুলশিক্ষা দফতরের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত এই সূচি চূড়ান্ত নয়।
মাধ্যমিক পিছিয়ে গেলে উচ্চমাধ্যমিকের চতুর্থ সেমেস্টারের পরীক্ষাও পিছিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্কুলশিক্ষামন্ত্রী। সে ক্ষেত্রে দোলের পর পরীক্ষা শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (West Bengal Council of Higher Secondary Education) এখনও নতুন কোনও চূড়ান্ত সূচি ঘোষণা করেনি। ফলে পরীক্ষার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনই জানানো সম্ভব নয়।
উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পরীক্ষার তারিখ বদলালে প্রস্তুতির সময়, স্কুলের পাঠক্রম শেষ করার পরিকল্পনা এবং পরবর্তী উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সময়সূচির উপরও তার প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে যাঁরা বিভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের জন্য নতুন রুটিন প্রকাশের সময়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
অন্যদিকে, জনগণনার প্রথম পর্বে শিক্ষকদের একাংশকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজে যুক্ত করা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতায় কয়েকটি স্কুলে নিয়মিত ক্লাস চালানো এবং পাঠ্যক্রম শেষ করা কঠিন হয়েছিল বলে শিক্ষক প্রতিনিধিদের বক্তব্য। দ্বিতীয় পর্বেও একই পরিস্থিতি তৈরি হলে স্কুলের স্বাভাবিক কাজকর্ম ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে প্রভাব পড়তে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।
এখন নজর স্কুলশিক্ষা দফতর এবং উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। মাধ্যমিকের নতুন সূচি অনুমোদিত হলে উচ্চমাধ্যমিকের চতুর্থ সেমেস্টারের পরীক্ষার দিনক্ষণও পুনর্বিন্যাস করা হতে পারে। ততক্ষণ পর্যন্ত পরীক্ষার্থীদের পুরনো রুটিনকে চূড়ান্ত ধরে নেওয়ার পাশাপাশি সংসদের সরকারি বিজ্ঞপ্তির দিকেও নজর রাখতে হবে।



