৯ মাসেও বকেয়া ডিএ মেটানো হয়নি কেন? রাজ্যকে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, পরবর্তী শুনানি জানুয়ারিতে

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে ফের প্রশ্নের মুখে রাজ্য। অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক-কর্মীদের পাওনা এবং কমিটির রিপোর্টের দিকে এখন নজর।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়ে ফের রাজ্য সরকারের কাছে জবাব চাইল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। ফেব্রুয়ারিতে বকেয়া ডিএ মেটানোর নির্দেশের পর প্রায় নয় মাস কেটে গেলেও কেন এখনও সম্পূর্ণ টাকা দেওয়া হয়নি, মঙ্গলবার সেই প্রশ্ন তোলে শীর্ষ আদালত। ডিএ মামলার শুনানিতে বকেয়া পরিশোধের অগ্রগতি এবং অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক-কর্মীদের পাওনা নিয়েও আদালতে বক্তব্য পেশ করেন আবেদনকারীদের আইনজীবীরা।

মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী জানুয়ারিতে। তার আগে আবেদনকারীদের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার কমিটির সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে আদালত।

একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগত বিষয়: ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারির রায়ে সুপ্রিম কোর্ট ২০০৮–২০১৯ সালের বকেয়া ডিএ-কে কর্মচারীদের আইনত প্রাপ্য অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল এবং AICPI-কে হিসাবের ভিত্তি করতে বলেছিল। তবে বকেয়ার মোট অঙ্ক ও ইতিমধ্যে দেওয়া টাকার হিসাব নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে আলাদা তথ্য রয়েছে। তাই ₹৪২ হাজার কোটি ও ₹৮ হাজার কোটির অঙ্ককে আদালতে আইনজীবীর বক্তব্য হিসেবেই উল্লেখ করা নিরাপদ।

ডিএ মামলার শুনানিতে কী কী বিষয় উঠল?

শুনানিতে আবেদনকারীদের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য দাবি করেন, অনুদানপ্রাপ্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এখনও তাঁদের বকেয়া ডিএ পাননি। অর্থাৎ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি গ্রান্ট-ইন-এইড (Grant-in-Aid) প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের পাওনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অন্যদিকে, আইনজীবী ফিরদৌস শামিমের বক্তব্য অনুযায়ী, বকেয়া ডিএ বাবদ প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার কথা জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত মেটানো হয়েছে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। এই অঙ্ক নিয়ে অবশ্য সরকারি নথি ও অন্যান্য প্রকাশিত হিসাবের সঙ্গে পার্থক্য রয়েছে। একটি প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ১৫ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত ২০০৮–২০১৯ সালের বকেয়া বাবদ প্রায় ১১,৯৮৩ কোটি টাকার মধ্যে ৭,৭৭১ কোটি টাকার বেশি দেওয়া হয়েছিল। ফলে মোট বকেয়ার অঙ্ক এবং পরিশোধের হিসাব চূড়ান্তভাবে নির্ধারণের ক্ষেত্রে মনিটরিং কমিটির রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ।

আবেদনকারীদের আগামী ১৪ ডিসেম্বর অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন কমিটির সামনে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই কমিটির রিপোর্ট জমা পড়ার পর জানুয়ারিতে মামলার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চলছে। প্রথমে স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল (SAT), পরে কলকাতা হাই কোর্ট হয়ে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছয়।

২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট জানায়, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা পাওয়ার অধিকার আইনত স্বীকৃত। ২০০৯ সালের রোপা বিধিতে (ROPA Rules) AICPI-র উল্লেখ থাকায় ডিএ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সর্বভারতীয় মূল্যসূচক অনুসরণ করতে হবে বলেও নির্দেশ দেয় আদালত। ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া মেটানোর বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপর বকেয়ার মোট পরিমাণ নির্ধারণ এবং কীভাবে টাকা মেটানো হবে, সেই বিষয়ে সুপারিশ করার জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে বকেয়া মেটানোর কিছু পদক্ষেপ করেছে। তবে অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের পাওনা নিয়ে এখনও অসন্তোষ রয়েছে বলে আবেদনকারীদের পক্ষের বক্তব্য।

ডিএ মামলার পরবর্তী পর্যায়ে গ্রান্ট-ইন-এইড প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের পাওনা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু হলেও অনুদানপ্রাপ্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রে একই অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

এখন নজর জানুয়ারির শুনানির দিকে। কমিটির রিপোর্টে বকেয়ার পরিমাণ, ইতিমধ্যে দেওয়া অর্থ এবং বাকি টাকা মেটানোর সময়সীমা সম্পর্কে কী সুপারিশ করা হয়, তার উপরই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ অনেকটা নির্ভর করবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর