বকেয়া DA মেটাতে নবান্নের নতুন নির্দেশ, HRMS-এ উঠবে পুরনো বেতনের তথ্য! কারা পাবেন টাকা?

২০০৮-২০১৫ সালের বকেয়া DA এক কিস্তিতে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর কর্মীদের পুরনো service ও pay record যাচাই করে HRMS-এর মাধ্যমে বিল প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি চলছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা DA মেটানোর প্রক্রিয়ায় আরও এক ধাপ এগোল নবান্ন। ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া DA এক কিস্তিতে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর এবার সেই অর্থের হিসাব ও বিল প্রক্রিয়াকরণের জন্য HRMS-এ প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ২৩ সেপ্টেম্বর রাজ্য অর্থ দফতরের জারি করা 3556-F(P2) নম্বর বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দফতরের Head of Office এবং Drawing and Disbursing Officer (DDO)-কে কর্মীর সার্ভিস রেকর্ড এবং বেতন সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করেই বকেয়া DA-র হিসাব তৈরি করতে হবে। ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যে বকেয়া DA ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে, সেই অর্থও হিসাবের সময় বিবেচনায় রাখতে হবে।
[পুজোর আগেই বকেয়া DA মিলবে এক কিস্তিতে, কে কত টাকা পাবেন? দেখে নিন হিসেব, রইল ক্যালকুলেটর]

এর ফলে ২০০৮-২০১৫ সালের পুরনো বেতন-সংক্রান্ত তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ ওই সময়ের বেতন, ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতি বা বেতন সংশোধনের তথ্যের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট কর্মীর প্রাপ্য বকেয়া DA নির্ধারণ করতে হবে। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, বকেয়া DA-র বিল প্রক্রিয়াকরণের জন্য HRMS-এ প্রয়োজনীয় technical update করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত operational instruction আলাদাভাবে জারি করা হবে।

এর আগে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও রাজ্য অর্থ দফতর জানিয়েছিল যে HRMS-এর e-Service Book বকেয়া DA হিসাবের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

অর্থ দফতরের ২৩ সেপ্টেম্বরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুরো প্রাপ্য বকেয়া DA AICPI-এর ভিত্তিতে ১০০ শতাংশ neutralisation অনুযায়ী এক কিস্তিতে দেওয়া হবে। তবে ২০১৬-২০১৯ পর্বের বকেয়া হিসেবে ইতিমধ্যে যে টাকা দেওয়া হয়েছে, তার প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে।

কর্মীদের ক্ষেত্রে টাকা পাওয়ার পদ্ধতিতেও আলাদা নিয়ম রাখা হয়েছে। Group A, B এবং C কর্মীদের বকেয়া DA তাঁদের GPF অ্যাকাউন্টে জমা হবে। Group D কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রাপ্য অর্থ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নগদ হিসেবে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যাঁদের অবসরের তিন মাসের মধ্যে GPF-এর final payment-এর সময় এসে গিয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে বকেয়া DA সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তবে GPF-এ জমা হওয়া বকেয়া DA সঙ্গে সঙ্গে তুলে নেওয়া যাবে না। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই অর্থের উপর ৩১ মার্চ ২০২৮ পর্যন্ত withdrawal সংক্রান্ত বিধিনিষেধ থাকবে। তবে তার আগেই যদি সংশ্লিষ্ট কর্মীর অবসর, মৃত্যু, পদত্যাগ ইত্যাদি ঘটে, তাহলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।

বকেয়া DA দেওয়ার আগে আয়করও কেটে নেওয়া হবে। ২০১৬-২০১৯ সালের বকেয়া DA দেওয়ার সময় যদি কোনও ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আয়কর কাটা না হয়ে থাকে, নতুন বকেয়া দেওয়ার সময় সেই অর্থও প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয় বা recovery করা হতে পারে।

এখানে কর্মীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—শুধু HRMS-এ পুরনো বেতনের তথ্য রয়েছে কি না, সেটিই চূড়ান্ত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মীর সার্ভিস ও পে-রেকর্ড যাচাই করে DDO-কে সঠিক হিসাব তৈরি করতে হবে। কোনও ভুলের কারণে নির্ধারিত প্রাপ্যের চেয়ে বেশি টাকা দেওয়া হলে পরবর্তীতে সেই অতিরিক্ত অর্থ recovery বা adjustment করা হতে পারে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে।

রাজ্য সরকারের আগের নির্দেশ অনুযায়ী HRMS-এ “Pay Details Entry for Arrear DA” নামে একটি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে পুরনো বেতন সংক্রান্ত তথ্য নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া এগোনোর কথা জানানো হয়েছিল। বিশেষ করে পুরনো pay record-এর তথ্যের ভিত্তিতে বকেয়া DA হিসাব করার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে।

তবে কবে প্রত্যেক কর্মীর অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছবে এবং কে ঠিক কত টাকা পাবেন, তা এই মুহূর্তে এক কথায় বলা যাচ্ছে না। কারণ প্রাপ্য অর্থ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কর্মীর service record, pay record, আগে পাওয়া বকেয়া এবং প্রয়োজনীয় adjustment-এর উপর। ২৩ সেপ্টেম্বরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট Head of Office/DDO-র যাচাইয়ের পরই বিল প্রক্রিয়া করা হবে।

এদিকে বকেয়া DA-র পাশাপাশি Grant-in-Aid প্রতিষ্ঠানের কর্মী, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে দাবি রয়েছে। মার্চে রাজ্য অর্থ দফতর জানিয়েছিল, Grant-in-Aid প্রতিষ্ঠানগুলির ২০০৮-২০১৯ সালের DA/DR বকেয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দফতরগুলিকে কর্মী ও পেনশনভোগীদের তথ্য সংগ্রহ করতে হবে এবং পরবর্তী সময়ে অর্থ দফতরের সম্মতিতে অর্থ দেওয়ার পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে।

ফলে আপাতত সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় আপডেট হল, ২০০৮-২০১৫ সালের বকেয়া DA এক কিস্তিতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করার পথে HRMS এবং পুরনো service/pay record-এর যাচাই প্রক্রিয়াও এগোচ্ছে। এখন নজর থাকবে, বিস্তারিত operational instruction কবে জারি হয় এবং দফতরভিত্তিক বিল তৈরির প্রক্রিয়া কবে শুরু হয়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন