‘রাষ্ট্রপতির কাছে বিলই পৌঁছয়নি’! গুন্ডাদমন বিল নিয়ে ‘FAKE’ দাবি শুভেন্দুর, সামনে এল অন্য তথ্য

গুন্ডাদমন বিল রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছয়নি বলে সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অথচ একাধিক সংবাদমাধ্যমে বিল ফেরত পাঠানোর খবর প্রকাশিত হয়েছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গের ‘গুন্ডাদমন বিল’ নিয়ে শুক্রবার রাতে হঠাৎ সাংবাদিক বৈঠক করে বড় দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, বিলটি এখনও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে পৌঁছয়ইনি। ফলে রাষ্ট্রপতি বিলটিতে সই করেননি বা পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠিয়েছেন—এমন খবরকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন তিনি।

শুক্রবার রাত পৌনে ১০টা নাগাদ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, বিল নিয়ে অযথা ‘ভুয়ো খবর’ ছড়ানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, বিলটির একটি অংশ ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে, আর বাকি অংশ এখনও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পর্যায়ে রয়েছে। রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর আগেই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে।

শুভেন্দুর বক্তব্য অনুযায়ী, “রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর আগে কাজ চলছে। এখনও পাঠানোই হয়নি।” ফলে রাষ্ট্রপতি বিলটি ফেরত পাঠিয়েছেন—এমন দাবি করার কোনও প্রশ্নই নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবরকে তিনি সরাসরি ‘FAKE’ বলেও উল্লেখ করেন।

তবে এখানেই তৈরি হয়েছে মূল ধোঁয়াশা। কারণ, এর আগেই একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু পশ্চিমবঙ্গের West Bengal Public Safety and Control of Anti-Social Activities Bill, 2026-এ অনুমোদন না দিয়ে সেটি পুনর্বিবেচনার জন্য রাজ্যের কাছে ফেরত পাঠিয়েছেন।

The Indian Express-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কেন্দ্রের তরফে বিলটির একটি ধারার সঙ্গে Narcotic Drugs and Psychotropic Substances Act, 1985 (NDPS Act) এবং Prevention of Illicit Traffic in Narcotic Drugs and Psychotropic Substances Act, 1988 (PITNDPS Act)-এর সম্ভাব্য সংঘাতের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। সেই কারণেই বিলটি পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়।

India Today-এর প্রতিবেদনেও একই ধরনের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে সরকারি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, বিলের ২(ডি)(iii)(B) ধারায় NDPS Act-এর অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধকে ‘গুন্ডা’-র সংজ্ঞার মধ্যে রাখার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি উঠেছে। কেন্দ্রের নোটে বলা হয়েছে, এর ফলে PITNDPS Act-এর অধীনে থাকা প্রতিরোধমূলক আটক ব্যবস্থার সঙ্গে একটি সমান্তরাল ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে।

কিন্তু শুক্রবার রাতের সাংবাদিক সম্মেলনে শুভেন্দুর বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা। তিনি জানিয়েছেন, বিলের দুটি পৃথক অংশ রয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত সংক্রান্ত অংশ ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে। অন্য অংশটি এখনও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পর্যায়ে রয়েছে এবং রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর আগের প্রক্রিয়া চলছে।

অর্থাৎ, বর্তমানে সামনে এসেছে দুটি পরস্পরবিরোধী দাবি। একদিকে, রাষ্ট্রপতি বিলটি ফেরত পাঠিয়েছেন বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেছেন, বিলটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোই হয়নি।

এই বিলটি চলতি বছরের ২৯ জুন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পাশ হয়েছিল। এর লক্ষ্য অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা জোরদার করা। প্রস্তাবিত আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোনও ব্যক্তিকে কোনও এলাকা বা জেলা থেকে বাইরে থাকার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ওই এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

বিলটির কিছু অংশ নিয়ে আগেই আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কলকাতা হাই কোর্টে বিলটির বৈধতা নিয়ে মামলা হয়েছিল। সেই সময় আদালত জানিয়েছিল, রাষ্ট্রপতির অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত বিলটি পূর্ণাঙ্গ আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি।

এদিকে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সংক্রান্ত খবর সামনে আসার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়। বিরোধীদের তরফে সরকারের উদ্দেশে প্রশ্ন তোলা হয়। তার মধ্যেই রাতে সাংবাদিক বৈঠক করে গোটা বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন শুভেন্দু।

এখন প্রশ্ন, বিলটি আসলে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছিল কি না এবং রাষ্ট্রপতি সেটি ফেরত পাঠিয়েছেন কি না? মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠকের বক্তব্যের সঙ্গে একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের সরাসরি অমিল রয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে সরকারি নথি বা রাষ্ট্রপতি ভবন/কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আনুষ্ঠানিক অবস্থানই বিতর্কটির চূড়ান্ত উত্তর দিতে পারে।

তবে শুভেন্দুর সাংবাদিক বৈঠক থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি বিল ফেরত পাঠিয়েছেন বলে প্রকাশিত খবরকে অস্বীকার করা হয়েছে। ফলে আগের প্রতিবেদনগুলির পর এবার গুন্ডাদমন বিল নিয়ে বিতর্ক আরও এক নতুন মাত্রা পেল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন