গুন্ডাদমন বিল ফেরত, মুখ খুললেন শুভেন্দু, কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

NDPS আইন ও প্রস্তাবিত রাজ্য আইনের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাতের কথা জানিয়ে গুন্ডাদমন বিল ফেরানো হয়েছে। বিল নিয়ে আইনি পথেই এগোনোর কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্যের গুন্ডাদমন বিল রাষ্ট্রপতির অনুমোদন না পেয়ে পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত আসার পর মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার তিনি জানিয়েছেন, বিলের আইনি দিক খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ করবে রাজ্য সরকার। তাঁর দাবি, দেশের আরও কয়েকটি রাজ্যে একই ধরনের আইন রয়েছে এবং পশ্চিমবঙ্গও আইনি পথেই এগোবে।

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বিলটিতে সম্মতি না দিয়ে পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠিয়েছেন। কেন্দ্রের আপত্তির মূল জায়গা মাদক সংক্রান্ত একটি বিধান। কেন্দ্রের বক্তব্য, প্রস্তাবিত আইনের ওই অংশের সঙ্গে ইতিমধ্যেই কার্যকর কেন্দ্রীয় আইনের overlapping তৈরি হতে পারে।

বিষয়টি নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আইনি সংস্থান দেখেই বিল কার্যকর করার পথে রাজ্য এগোবে।” তাঁর বক্তব্য, “গুন্ডাদমন আইন আরও চারটি রাজ্যে আছে। আমরা আইনি পথেই কাজ করব। অসুবিধা কিছু হবে না।”

অভিষেকের ‘রিভার্স গিয়ার’ কটাক্ষ

রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে বিল ফেরত আসার খবর প্রকাশ্যে আসার পরই রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স-এ তিনি লেখেন, “পোস্টারে ডবল ইঞ্জিন, কাজে রিভার্স গিয়ার! হোমওয়ার্ক ফেরত, সংশোধনের নির্দেশ।”

অভিষেকের সেই কটাক্ষের জবাবও দেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “যে যা বলছে, বলতে দিন! গুন্ডারা এখন ভয় পেয়েছে, তাই এ সব বলছে।”

এর পরেই মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার নিজের অবস্থান থেকে সরে আসবে না। তাঁর কথায়, “গুন্ডারা যাতে ভয়ে থাকে, জেলে যায়, রাজ্য সরকার তার ব্যবস্থা করবে।”

কেন ফেরত এল গুন্ডাদমন বিল?

রাষ্ট্রপতি ভবনের সিদ্ধান্তের পেছনে কেন্দ্রীয় সরকারের আপত্তির কথা উঠে এসেছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে। কেন্দ্রের নোট অনুযায়ী, বিলের ২(ডি)(iii)(B) ধারায় ‘গুন্ডা’র সংজ্ঞার মধ্যে এমন ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাঁরা NDPS Act, 1985-এর আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধে যুক্ত।

সমস্যা তৈরি হচ্ছে এখানেই। মাদক সংক্রান্ত অপরাধ এবং এই ধরনের অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের preventive detention-এর জন্য কেন্দ্রের PITNDPS Act, 1988 ইতিমধ্যেই রয়েছে। কেন্দ্রের বক্তব্য, রাজ্যের প্রস্তাবিত আইনে একই ধরনের আলাদা ব্যবস্থা তৈরি হলে দুই আইনের মধ্যে overlap বা সংঘাত তৈরি হতে পারে।

কেন্দ্রের নোটে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের overlap থেকে সংবিধানের ২৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী repugnancy-র প্রশ্ন উঠতে পারে। সেই কারণেই প্রস্তাবিত আইনের সংশ্লিষ্ট অংশ থেকে NDPS Act-এর উল্লেখ বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তটি গোটা বিল বাতিল করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নয়। বিলটি পুনর্বিবেচনার জন্য রাজ্যের কাছে ফেরত এসেছে। প্রয়োজনীয় সংশোধন করার পর বিধানসভায় সেটি ফের তোলা এবং পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের এক আধিকারিকও এই পথের কথা জানিয়েছেন।

বিলটি কী করতে চেয়েছিল?

West Bengal Public Safety and Control of Anti-Social Activities Bill, 2026 জুন মাসে বিধানসভায় পাশ হয়। প্রস্তাবিত আইনে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ‘গুন্ডা’ হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছিল।

বিলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোনও ব্যক্তিকে কোনও এলাকা, জেলা বা জেলার নির্দিষ্ট অংশের বাইরে থাকার নির্দেশ দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। এমন নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত হতে পারে।

এর আগে বিলটির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টেও মামলা হয়েছিল। ৬ অগস্ট আদালত সেই আবেদনগুলি খারিজ করে জানায়, রাষ্ট্রপতির সম্মতি না পাওয়া পর্যন্ত বিলটি আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি। ফলে সেই পর্যায়ে আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা আবেদনগুলি premature ছিল। রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়ার পর আইন কার্যকর হলে ফের আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও আদালত জানিয়েছিল।

ফলে এখন রাজ্য সরকারের সামনে মূল প্রশ্ন হল, কেন্দ্রের আপত্তির জায়গাগুলি কীভাবে সংশোধন করা হবে এবং সংশোধিত বিল ফের কীভাবে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। রাজনৈতিকভাবে অবশ্য রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন