বড়মা দর্শনে এ বার কী কী বদলাচ্ছে? ২২টি ব্যারিকেড, VIP প্রবেশ বন্ধ, ট্রেন চলাচলেও বিশেষ বিধি!

নৈহাটির বড়মার কালীপুজো ২০২৬-এ ভক্তদের নিরাপত্তায় ২২টি ব্যারিকেড, VIP প্রবেশ বন্ধ, পৃথক যাতায়াতপথ ও বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা। জেনে নিন ট্রেন চলাচল, দণ্ডী, পুষ্পাঞ্জলি ও ভোগপ্রসাদের সময়সূচি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কালীপুজোয় নৈহাটির বড়মাকে (Naihati Boro Maa) দর্শন করতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন? এ বছর ভক্তদের ভিড় সামলাতে একাধিক পদক্ষেপ করছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন ও ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট। মন্দির সংলগ্ন এলাকায় বসানো হচ্ছে ২২টি ব্যারিকেড, নির্দিষ্ট করা হচ্ছে প্রবেশ ও বেরনোর পৃথক পথ। VIP প্রবেশের ব্যবস্থাও থাকছে না। পাশাপাশি নৈহাটি স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পুজোর কয়েক দিন ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বছর নৈহাটির বড়মার কালীপুজো ১০৩তম বর্ষে পা দিচ্ছে। প্রতি বছর এই পুজোয় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক ভক্ত আসেন। দুর্গাপুজোয় কলকাতার চোরবাগানের মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর বড়মার পুজোয় ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন।

- Advertisement -
প্রশাসনিক প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে মন্দির চত্বর পরিদর্শন করেছেন উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শিল্পা গৌরীসারিয়া। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মহকুমা প্রশাসন, পুরসভা, পুলিশ এবং পুজো কমিটির প্রতিনিধিরা। পরিদর্শনের পর ভক্তদের যাতায়াত, যান নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার বিষয়ে একাধিক পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে।

বড়মার মন্দিরে ২২টি ব্যারিকেড, প্রবেশ ও বেরনোর পথ আলাদা

নৈহাটির বড়মার মন্দির ও মণ্ডপ সংলগ্ন এলাকায় মোট ২২টি ব্যারিকেড বসানো হচ্ছে। ভিড়ের চাপ যাতে এক জায়গায় জমে না যায় এবং একসঙ্গে অতিরিক্ত মানুষ মণ্ডপের দিকে ঢুকে পড়তে না পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা। সরু রাস্তায় ভক্তদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর রাখছে প্রশাসন।

মন্দিরে প্রবেশের জন্য একটি পথ এবং বেরিয়ে যাওয়ার জন্য অন্য পথ নির্দিষ্ট করা হচ্ছে। ফলে একই রাস্তা দিয়ে বিপরীতমুখী ভিড় চলাচলের পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে বলে প্রশাসনের পরিকল্পনা। এ বছর VIP-দের জন্য আলাদা প্রবেশপথ বা বিশেষ যাতায়াতের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে না।

দর্শনার্থীদের ভিড় অনুযায়ী প্রয়োজনীয় রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ বা ঘুরিয়ে দেওয়া হতে পারে। গঙ্গায় স্নান করে যাঁরা দণ্ডী কেটে মন্দিরে আসবেন, তাঁদের যাতায়াতের দিকেও নজর রাখা হচ্ছে। দণ্ডী কাটার পথে যাতে অসুবিধা না হয়, সে জন্য গঙ্গার ঘাট থেকে মন্দির পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুরসভাকে।

নৈহাটি স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেন চলাচল বন্ধ

কালীপুজোর সময়ে নৈহাটি স্টেশনে যাত্রীদের চাপ সামলাতেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুজোর কয়েক দিন নৈহাটি স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে ওই প্ল্যাটফর্ম থেকে যাত্রীরা ট্রেন ধরতে পারবেন না। নৈহাটিতে যাওয়ার বা সেখান থেকে ফেরার পরিকল্পনা থাকলে রওনা হওয়ার আগে রেলের সর্বশেষ ঘোষণা দেখে নেওয়া জরুরি।

- Advertisement -

অন্যদিকে, মন্দির চত্বরে নিরাপত্তা বজায় রাখতে ব্যারাকপুর পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলের ব্যবস্থার কথাও প্রকাশিত হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) মোতায়েনের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

৬ থেকে ১৪ নভেম্বর বন্ধ থাকবে বড়মার মন্দিরের দরজা?

কালীপুজোর সময় ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য ৬ নভেম্বর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত নৈহাটির বড়মার মূল মন্দির ভক্তদের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশিত হয়েছে। মন্দির কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে মূল মন্দিরে সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ থাকবে। তবে অরবিন্দ রোডে বড়মার বার্ষিক কালীপুজোর আয়োজন ও তার নির্ঘণ্ট আলাদা।

তাই কালীপুজোর দিন বড়মাকে দর্শনের পরিকল্পনা থাকলে মূল মন্দির এবং অরবিন্দ রোডের পুজোর আয়োজনের মধ্যে পার্থক্যটি মাথায় রাখা প্রয়োজন। যাত্রার আগে মন্দির কর্তৃপক্ষ বা প্রশাসনের সর্বশেষ নির্দেশিকা জেনে নেওয়াই ভালো।

কবে দণ্ডী, কখন পুজো ও পুষ্পাঞ্জলি? জেনে নিন নির্ঘণ্ট

নৈহাটির বড়মার পুজো ঘিরে দণ্ডী, পুষ্পাঞ্জলি ও ভোগপ্রসাদ বিতরণের নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশিত হয়েছে। ৭ নভেম্বর, শনিবার রাত ১২টা থেকে দণ্ডী কাটা শুরু হবে। ৮ নভেম্বর, রবিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে এই পর্ব। ওই দিন রাত ১২টায় শুরু হবে বড়মার কালীপুজো।

পুজোর রাতে রাত দেড়টা নাগাদ পুষ্পাঞ্জলি হবে। ভোগপ্রসাদ বিতরণ শুরু হওয়ার কথা রাত আড়াইটে থেকে। ৯ নভেম্বর, সোমবার বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রসাদ বিতরণ চলবে বলে প্রকাশিত সূচিতে জানানো হয়েছে।

১২ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার বড়মার নিরঞ্জন পুজো ও দধিকর্মার আয়োজন রয়েছে। ওই দিন দুপুর ২টোয় বরণ এবং বিকেল ৪টেয় নিরঞ্জন শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার কথা।

চোরবাগানের ঘটনার পর কালীপুজোয় বাড়তি সতর্কতা

১৭ অক্টোবর দুর্গাপুজোর সপ্তমীর সন্ধ্যায় কলকাতার চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর কালীপুজোর মণ্ডপগুলিতে প্রবেশ ও বেরনোর পথ, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ-প্রশাসন।

কলকাতা পুলিশের নির্দেশিকায় মণ্ডপে বৃষ্টির সময় আশ্রয় নিতে গিয়ে যাতে হঠাৎ অতিরিক্ত ভিড় ঢুকে না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। বড় মণ্ডপগুলির কাঠামোগত নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং প্রবেশপথের তুলনায় বেরনোর গেট চওড়া রাখার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে।

নৈহাটির বড়মার পুজোতেও এ বার ব্যারিকেড, পৃথক প্রবেশ ও প্রস্থানপথ, যান নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতির মাধ্যমে ভিড় সামলানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগমের মধ্যে প্রত্যেকের নিরাপদে দর্শন ও যাতায়াত নিশ্চিত করাই প্রশাসনের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর