ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে আইনি বিপাকে পড়লেন বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী (Dhirendra Krishna Shastri)। তাঁর বিরুদ্ধে আগ্রার একটি আদালতে অপরাধমূলক মানহানির মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগ, শ্রীকৃষ্ণের বাঁশি বাজানো ও বংশীধারী রূপ নিয়ে মন্তব্য করে কৃষ্ণভক্তদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উত্তরসূরিদেরও অপমান করা হয়েছে বলে অভিযোগ মামলাকারীর। আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছে। আগামী ১৪ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত মধ্যপ্রদেশের শিবপুরীতে একটি রামকথার অনুষ্ঠানে। সেখানে ভগবান রামের মাহাত্ম্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে তুলনা টানেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। সেই তুলনা করতে গিয়েই কৃষ্ণের বংশীধারী মূর্তি নিয়ে এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক।
কৃষ্ণের বাঁশি নিয়ে কী বলেছিলেন বাগেশ্বর বাবা?
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী বলেন, রাম সোজা পথে চলেন, তাঁর কাজ ও চরিত্রেও রয়েছে সরলতা। অন্যদিকে কৃষ্ণের মূর্তিতে তাঁর শরীর বাঁকানো অবস্থায় দেখা যায়। বাঁশি বাজানোর ভঙ্গি নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের নির্যাস ছিল, বাঁশি বাজানো কোনও বড় বিষয় নয়, বরং ভগবান রামের হাতে থাকা ধনুকই প্রকৃত শক্তির প্রতীক।
এই মন্তব্যের পরেই কৃষ্ণভক্তদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ ছড়ায়। তাঁদের অভিযোগ, দুই দেবতার মাহাত্ম্য বোঝাতে গিয়ে একজনের সঙ্গে অন্যজনের তুলনা টেনে শ্রীকৃষ্ণের ঐতিহ্যবাহী রূপকে অসম্মান করেছেন বাগেশ্বর ধামের প্রধান।
বিতর্ক বাড়ার পর অবশ্য নিজের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। কিন্তু তাতেও বিষয়টি থামেনি। এবার সেই মন্তব্যের জেরেই আদালতের দ্বারস্থ হলেন এক আইনজীবী।
আগ্রার আদালতে মামলা দায়ের
অজয় প্রতাপ সিং নামে এক আইনজীবী আগ্রার নিম্ন আদালতে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মানহানির অভিযোগ দায়ের করেছেন। মামলাকারীর দাবি, শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে ওই মন্তব্য শুধু ভক্তদের ধর্মীয় অনুভূতিতেই আঘাত করেনি, শ্রীকৃষ্ণের বংশধরদেরও অসম্মান করেছে।
আদালতের বিচারক কাঞ্চন কুমার মামলাটি গ্রহণ করেছেন বলে প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। আগামী ১৪ ডিসেম্বর মামলার শুনানি হওয়ার কথা। ফলে আপাতত বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের আইনি দিকটি কোন পথে এগোয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।
তবে মামলা গ্রহণ করা মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। আদালতে শুনানি ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে। অপরাধমূলক মানহানির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে আইন অনুযায়ী শাস্তির মুখে পড়তে পারেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী।
মথুরা-বৃন্দাবনেও অসন্তোষ
এই বিতর্কের আঁচ পৌঁছেছে উত্তরপ্রদেশের মথুরা ও বৃন্দাবনেও। কৃষ্ণভূমির সাধু-সন্ন্যাসীদের একাংশের মতে, ধর্মীয় মঞ্চে বক্তব্য রাখার সময় দেবদেবীদের নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে শ্রীকৃষ্ণের নানা রূপ ও লীলার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। কোথাও তিনি বালগোপাল, কোথাও মাখনচোর, আবার কোথাও বংশীধারী। কৃষ্ণের বাঁশি তাঁর প্রেম, ভক্তি ও আধ্যাত্মিকতার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়।
সেই বংশীধারী রূপ নিয়ে প্রকাশ্যে কটাক্ষ করাকে ভালোভাবে নিচ্ছেন না কৃষ্ণভক্তদের একাংশ। মথুরার কয়েকজন সাধু-সন্ন্যাসীর বক্তব্য, ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের উচিত মানুষের বিশ্বাস ও আস্থার প্রতি সম্মান রেখে কথা বলা।
সব মিলিয়ে রাম ও কৃষ্ণের তুলনা করতে গিয়ে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর মন্তব্য এখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। ক্ষমা চাওয়ার পরেও বিতর্কের অবসান হয়নি। আগামী ১৪ ডিসেম্বর আগ্রার আদালতে শুনানিতে এই মামলার পরবর্তী গতিপ্রকৃতি স্পষ্ট হতে পারে।



