রাজধানী দিল্লিতে ফের বাড়ি ভেঙে ভয়াবহ বিপর্যয়। বৃহস্পতিবার সকালে চাওরি বাজার মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি নির্মীয়মাণ তিনতলা বাড়ি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দু’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। কী কারণে বাড়িটি ভেঙে পড়ল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিট নাগাদ পুরনো দিল্লির গলি সিতারা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নির্মাণকাজ চলছিল তিনতলা বাড়িটিতে। আচমকাই বাড়ির একটি অংশ ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে গোটা কাঠামো ধসে পড়ায় আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েন বেশ কয়েকজন। উদ্ধারকারীরা গুরুতর আহত অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতদের নাম চন্দরপাল (৬০) এবং বিজয় কুমার (৩৩)। তাঁদের মৃত্যুর খবর সামনে আসার পর উদ্ধারকাজ আরও জোরদার করা হয়েছে।
কীভাবে ভেঙে পড়ল তিনতলা বাড়িটি?
প্রাথমিকভাবে স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, নির্মাণকাজ চলার সময় বাড়িটির পুরনো ছাদের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। এরপর ধাপে ধাপে গোটা বাড়ির কাঠামো ধসে যায়। তবে ঠিক কী কারণে এই বিপর্যয় ঘটল, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
বাড়িটির নির্মাণকাজের সময় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও গাফিলতি ছিল কি না, কাঠামোর স্থায়িত্ব নিয়ে আগে কোনও অভিযোগ উঠেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রশাসনের তরফে তদন্তের পরেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।
ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে বহু, চলছে উদ্ধারকাজ
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দিল্লি পুলিশ, দমকল এবং উদ্ধারকারী দল। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া ব্যক্তিদের খোঁজ চালানো হচ্ছে। ভারী যন্ত্রপাতির পাশাপাশি উদ্ধারকর্মীরা সতর্কতার সঙ্গে ধ্বংসস্তূপের বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করছেন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, বাড়ির ভিতরে এবং নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন। তবে ঠিক কতজন নিখোঁজ বা আটকে রয়েছেন, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। ফলে মৃত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
দিল্লিতে বাড়ি ভাঙার ঘটনা নিয়ে সরব আপ
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি ও পুরনো ভবন ভেঙে পড়ার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। বারবার এমন দুর্ঘটনায় ভবনের নিরাপত্তা এবং নির্মাণকাজের নিয়মকানুন কার্যকর করা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
চাওরি বাজারের এই দুর্ঘটনার পর দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে আম আদমি পার্টি (AAP)। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজধানীতে একের পর এক বাড়ি ভেঙে প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের তরফে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। যদিও এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
সব মিলিয়ে, পুরনো দিল্লির ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় নির্মীয়মাণ বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে ফের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, এখন উদ্ধারকারী দলের কাছে সেটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।



